বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে ভয়াবহ হেনস্থা! যুবতী ও দুই যুবককে ইলেকট্রিক পোলে বেঁধে মারধর

ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে এক যুবতী ও দুই যুবককে ভয়াবহভাবে মারধর করা হয়েছে। গ্রামবাসীরা তাঁদের একটি ইলেকট্রিক পোলে বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় যুবতীর স্বামী ও এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

কীভাবে এই ঘটনার সূত্রপাত?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাশিপুর গ্রামের এক বিবাহিত যুবতী তার দুই সন্তানের সঙ্গে থাকেন। সম্প্রতি তিনি দুই যুবকের সঙ্গে বাইকে চেপে জশিপুর বাজারে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয় যে তিনি হয়তো বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। যুবতীর কাকা এবং আত্মীয়রা তাঁদের তিনজনকে হাতেনাতে ধরেন এবং মারধর করেন।

যদিও যুবতীর পরিবার দাবি করেছে, ওই দুই যুবক তার ভাইয়ের মতো ছিলেন, কিন্তু গ্রামবাসীর সন্দেহ দূর হয়নি। পথচলতি অনেকেই এই ঘটনার ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন, যা ভাইরাল হয়েছে।

একই জেলায় অন্য এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড

এই একই জেলায় গত জুলাই মাসে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। দেবাশিস পাত্র নামে এক যুবক তার স্ত্রী সোনালী দালাল এবং শাশুড়ি সুমতি দালালকে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে খুন করে। এরপর সে প্রমাণ লোপাটের জন্য বাগানে মাটি খুঁড়ে দেহ দুটি পুঁতে দেয় এবং তার ওপর কলাগাছ লাগিয়ে দেয়।

পুলিশি জেরায় দেবাশিস তার অপরাধ স্বীকার করে নেয়। সে জানায়, স্ত্রী এবং শাশুড়ির সঙ্গে তার তীব্র ঝামেলা চলছিল। এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে পারিবারিক সম্পর্ক ও বিশ্বাসের অভাব কীভাবে সমাজে হিংসা ও অমানবিকতার জন্ম দিচ্ছে।