মাঝপথে আইপিএল, আর ঠিক তার মাঝেই বড়সড় এক বোমা ফাটাল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। তবে এবার বাইশ গজের লড়াই নয়, বরং ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ‘হানি ট্র্যাপ’-এর আশঙ্কায় কঠোর নির্দেশিকা জারি করল বোর্ড। বিসিসিআই-এর ভয়, ক্রিকেটাররা যৌন কেলেঙ্কারি বা কোনো বড়সড় ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়তে পারেন। আর সেই বিপদ রুখতেই এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য একগুচ্ছ কড়া নিয়ম নিয়ে হাজির হয়েছে বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার দফতর।
কেন হঠাৎ এত কড়াকড়ি?
বোর্ডের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইদানীংকালে দেখা যাচ্ছে অনেক ক্রিকেটার বা সাপোর্ট স্টাফ টিমের অজান্তেই বহিরাগতদের নিজেদের ব্যক্তিগত হোটেল রুমে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন। হাই-প্রোফাইল এই টুর্নামেন্টে অনেক সময়ই নির্দিষ্ট কিছু চক্র ক্রিকেটারদের হানি ট্র্যাপে ফেলার চেষ্টা করে। এছাড়া রয়েছে যৌন হেনস্থার মতো মারাত্মক আইনি জটিলতার ঝুঁকি। এই ধরনের বিতর্ক থেকে টুর্নামেন্ট এবং ক্রিকেটারদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতেই কোমর বেঁধে নেমেছে বোর্ড।
টিম ম্যানেজারদের হাতে বাড়তি ক্ষমতা
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সবকটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন:
টিম ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি (সে তিনি যত কাছেরই হোন না কেন) ক্রিকেটার বা স্টাফদের হোটেল রুমে প্রবেশ করতে পারবেন না।
হোটেলের লবি বা রিসেপশন লাউঞ্জ—এই ধরনের প্রকাশ্য জায়গাতেই এখন থেকে অতিথিদের সঙ্গে দেখা করতে হবে ক্রিকেটারদের।
কারা হোটেলে আসছেন এবং কখন যাচ্ছেন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ রেকর্ড রাখতে হবে টিম ম্যানেজারকে। আইপিএল অপারেশনস টিম নিয়মিতভাবে এই রেকর্ডে নজরদারি চালাবে।
নিরাপত্তায় কোনো আপস নয়
বোর্ডের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, হাই-প্রোফাইল ক্রীড়া ইভেন্টে যৌন হয়রানি বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সম্ভাবনা সব সময় থেকে যায়। তাই কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আগেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না বিসিসিআই।
মাঠের বাইরে ক্রিকেটারদের জীবনকে শৃঙ্খলাপরায়ণ রাখতেই এই অভূতপূর্ব পদক্ষেপ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এখন দেখার, বোর্ডের এই নতুন ‘সুরক্ষা কবচ’ আইপিএলের রঙিন দুনিয়ায় কতটা বড় প্রভাব ফেলে।





