বিপর্যয়ের পরেও পাহাড় এড়িয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী! ‘উত্তরবঙ্গকে ভালোবাসেন না’, আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর

উত্তরবঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর তিনদিনের সফরে গিয়েও পাহাড়ের ধস কবলিত এলাকা (মিরিক, বিজনবাড়ি) পরিদর্শন না করে ফিরে আসায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এবং পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলি এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে সরব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুধু দুধিয়া থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করে ফেরায় শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক।

বিতর্কের কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি
বিপর্যয়-বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর তিনদিনের সফরে ছিল নাগরাকাটা এবং দুধিয়া। তিনি নাগরাকাটায় বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। মঙ্গলবার উত্তরকন্যা থেকে তিনি সোজা দুধিয়ায় যান, সেখানে ধসে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেন এবং ভাঙা বালাসন সেতু ও বিকল্প সেতু নির্মাণের কাজ খতিয়ে দেখেন।

তবে, তিনি ধস কবলিত মিরিক, বিজনবাড়ি-সহ পাহাড়ের অন্যান্য এলাকায় না-যাওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

বিরোধী ও আঞ্চলিক দলের তোপ
মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড় পরিদর্শনে গরহাজিরা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মিরিকের সৌরেনিতে গিয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গকে ভালোবাসেন না। বিশেষ করে পাহাড়কে পছন্দ করেন না। তাই কাছে এসেও পাহাড়ে যাননি।”

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুংও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড়ে যাওয়া উচিত ছিল। তিনি গেলে পাহাড়বাসী খুশি হতো। কেন গেলেন না জানি না।”

সিপিএমের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠক সরাসরি রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী তো এসেছিলেন রাজনীতি করতে। সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে পাহাড়ে। সেখানে গেলেন না। দুধিয়া থেকেই ফেরত চলে গেলেন।”

মুখ্যমন্ত্রীর পাশে অনীত থাপা
যদিও গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার সভাপতি অনীত থাপা এই সমালোচনা মানতে নারাজ। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ নিয়ে বলেন, “পাহাড়ে এখনও অনেক সড়ক ভাঙা রয়েছে। ওয়ান ওয়ে করে কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী দুধিয়া থেকেই পাহাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাহায্য তুলে দিয়েছেন। পরে আবার আসবেন বলেছেন। এখন সরকারের মূল কাজ যেসব সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে সেগুলো ঠিক করা। এসবের কাজ চলছে। রাজনীতি করার জন্য এসব অনেকে বলতেই পারেন।”

এদিকে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দুধিয়ায় মেরামতের কাজ চলছে এবং বালাসন ও তিস্তা নদীর জলস্তর নামতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় ধীরে ধীরে পর্যটকরাও পাহাড়ের দিকে যেতে শুরু করেছেন, যা পর্যটনমহলে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।