মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এবার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেল আমেরিকার শক্তিশালী বোয়িং বিমান। কাতারের আকাশসীমার ওপর দিয়ে ওড়ার সময় মার্কিন সেনাবাহিনীর ওই জ্বালানি ট্যাঙ্কারটির সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক মুহূর্তখানেক আগে বিমানটি থেকে একটি ‘বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ বা 7700 Distress Signal পাঠানো হয়েছিল। এর পর থেকেই বিমানটির কোনো হদিস মিলছে না।
কী এই বিমান? কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?
নিখোঁজ হওয়া বিমানটি হলো Boeing KC-135 Stratotanker। আমেরিকার সেনাবাহিনীর পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ফ্লাইং গ্যাস স্টেশন’। এই বিশালাকায় বিমানটি মূলত মাঝ আকাশে ওড়ার সময় অন্যান্য যুদ্ধবিমানে জ্বালানি ভরার কাজে ব্যবহৃত হয়। চারটি টার্বোফ্যান ইঞ্জিন বিশিষ্ট এই বিমানটি গত ৬০ বছর ধরে মার্কিন বায়ুসেনার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে।
ঘটনার গতিপ্রকৃতি: কোথায় গেল বিমানটি?
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট Flightradar24-এর তথ্য অনুযায়ী:
বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ‘আল দফরা’ মার্কিন ঘাঁটি থেকে উড়ান দিয়েছিল।
পারস্য উপসাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় কাতারের আকাশে বিমানটি কিছু সময় বৃত্তাকারে ঘোরে।
হঠাৎই অবতরণের ভঙ্গিতে নিচের দিকে নেমে আসতে শুরু করে এবং তার পরেই সিগন্যাল উধাও হয়ে যায়।
হামলার আশঙ্কা না কি যান্ত্রিক গোলযোগ?
এখনও পর্যন্ত আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ফারস নিউজ’ এই নিখোঁজ হওয়ার খবরটি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসেই ইরাকে একটি একই মডেলের বিমান ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলায় ধ্বংস হয়েছিল। বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই বিমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোনো অন্তর্ঘাত বা শত্রুপক্ষের হামলা রয়েছে কি না, তা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।





