সোনা কেবল অলঙ্কার নয়, বিনিয়োগের সেরা মাধ্যম হিসেবে নিজেকে ফের প্রমাণ করল। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) পরিচালিত সভায়িন গোল্ড বন্ড (Sovereign Gold Bond) বা SGB-র একটি সিরিজ রিডেম্পশন বা ম্যাচুরিটির পর যে রিটার্ন দিয়েছে, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। গত কয়েক বছরে সোনার দামের অভাবনীয় উত্থানে কপাল খুলেছে বহু মানুষের।
রিটার্নের অবিশ্বাস্য অংক: আরবিআই-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট সিরিজের গোল্ড বন্ডের ইউনিট প্রতি ইস্যু প্রাইস বা কেনা দাম ছিল মাত্র ৫,০৫১ টাকা। সম্প্রতি সেই বন্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিডেম্পশন ভ্যালু বা বিক্রয় মূল্য দাঁড়িয়েছে ইউনিট প্রতি ১৫,২৫৪ টাকা। অর্থাৎ:
মোট রিটার্ন: ২০৫ শতাংশের উপরে।
লাভের বহর: বিনিয়োগ করা মূলধন প্রায় ৩ গুণেরও বেশি হয়ে ফিরে এসেছে গ্রাহকদের হাতে।
কেন এত লাভ? ১. সোনার দাম বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে গত কয়েক বছরে সোনার দাম রেকর্ড হারে বেড়েছে। ২. অতিরিক্ত সুদ: এই বন্ডে বিনিয়োগ করলে বার্ষিক একটি নির্দিষ্ট হারে (সাধারণত ২.৫০%) সুদ পাওয়া যায়, যা মূল রিটার্নের সাথে যোগ হয়ে লাভকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ৩. ট্যাক্স সুবিধা: ম্যাচুরিটি পর্যন্ত বন্ড ধরে রাখলে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সে সম্পূর্ণ ছাড় পাওয়া যায়, যা ফিজিক্যাল গোল্ড বা জুয়েলারির ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।
আপনার কাছে কি এই বন্ড ছিল? যারা দীর্ঘ মেয়াদে সঞ্চয়ের কথা ভেবে ফিজিক্যাল সোনার বদলে ডিজিটাল গোল্ড বন্ডে ভরসা রেখেছিলেন, আজ তাদের মুখে চওড়া হাসি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিক্সড ডিপোজিট বা মিউচুয়াল ফান্ডের অনেক স্কিমকেও হার মানিয়েছে এই রিটার্ন। তবে যারা সুযোগ মিস করেছেন, তাদের জন্য পরবর্তী সিরিজের বন্ড কবে আসবে, সেদিকে নজর রাখতে বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
ডিজিটাল গোল্ডের এই ‘ম্যাজিক’ রিটার্ন প্রমাণ করল যে, সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করলে লক্ষ্মীলাভ নিশ্চিত।





