বিদ্রোহের আগুনে জ্বলছে নেপাল, প্রাণ হাতে নিয়ে বাঁকুড়ায় ফিরলেন ৯ শ্রমিক, শোনালেন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা

নেপালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও লাগাতার কারফিউয়ের মধ্যে প্রাণ হাতে নিয়ে দেশে ফিরেছেন বাঁকুড়া জেলার ৯ জন পরিযায়ী শ্রমিক। এক সময় কাঁসার বাসন তৈরির জন্য বিখ্যাত বাঁকুড়ার এই শ্রমিকরা রোজগারের খোঁজে দীর্ঘদিন ধরে নেপালে কাজ করছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে তাঁদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। ফিরে আসা শ্রমিকদের মুখ থেকে উঠে এসেছে সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা।

নেপালে আটকে পড়া এবং ফেরা:
বাঁকুড়ার হীড়বাঁধ ও সিমলাপাল ব্লকের বহু মানুষ নেপালে কাঁসার বাসন তৈরির কাজে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ১৫-২০ বছর ধরে কাঠমান্ডু ও বীরগঞ্জ-সহ নেপালের বিভিন্ন শহরে কাজ করছেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে নেপালে চলা সংঘর্ষ ও কারফিউয়ের কারণে তাঁরা কার্যত কর্মস্থলে আটকে পড়েন। পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, ফলে বাঁকুড়ায় তাঁদের প্রিয়জনরা গভীর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন।

অবশেষে শুক্রবার নয়জন শ্রমিকের একটি দল বাঁকুড়ায় ফিরতে সক্ষম হন। দলের সদস্য দীপেন কর্মকার ও মন্টু কর্মকার জানান, যে বাজার থেকে তাঁরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেন, তা গত কয়েকদিন ধরে অশান্ত ছিল। কারফিউ শিথিল হতেই তাঁরা পায়ে হেঁটে সীমান্ত অভিমুখে রওনা দেন।

হাড়হিম করা অভিজ্ঞতা:
দীপেন-মন্টু জানান, তাঁদের মতো আরও অনেক শ্রমিক প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্নভাবে সীমান্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউবা গাড়ি ভাড়া করে। কিন্তু গাড়ি ভাড়া অনেক বেশি হওয়ায় তাঁরা হেঁটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়ে তাঁরা ইন্দো-নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।

এরপর বিহারের রক্সৌল স্টেশন থেকে ট্রেনে দুর্গাপুর হয়ে সড়কপথে তাঁরা অবশেষে বাঁকুড়ায় নিজেদের বাড়িতে পৌঁছান। ঘরে ফিরে স্বস্তি পেলেও তাঁরা জানালেন, এখনও বহু শ্রমিক নেপালে আটকে আছেন। তাই তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ এবং সরকারি সহায়তা:
পুজোর ঠিক আগে এই শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়লেন। রাজ্য সরকারের ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের আওতায় পরিযায়ী শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নেপাল থেকে ফেরা এই শ্রমিকরা সেই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন জানিয়েছেন, আটকে থাকা শ্রমিকদের সহায়তার জন্য রাজ্য সরকারের একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কোনো শ্রমিক বা তাঁর পরিবার যোগাযোগ করলে প্রশাসন তাঁদের সবরকম সহায়তা দেবে।