বিদেশ যাত্রার লড়াইয়ে ব্যাকফুটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফের ধাক্কা হাইকোর্টে!

রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মাঝে ফের একবার কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। সোমবার এই মামলার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবীরা। তবে রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।

হাইকোর্টের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই মামলায় কোনো জরুরি শুনানির প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত সূচি মেনেই জুলাই মাসে মামলার শুনানি হবে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি টিম একইভাবে জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়েছিল, যা সেবারও খারিজ করে দিয়েছিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের এই কঠোর অবস্থানে কার্যত স্পষ্ট, আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে দ্রুত বিদেশ যাত্রার সুযোগ আপাতত নেই।

সূত্রের খবর, ২০১৬ সালে মুর্শিদাবাদে এক দলীয় কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন অভিষেক। সেই সময় তাঁর চোখের নিচে গুরুতর চোট লেগেছিল। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পর পরবর্তীতে তাঁকে বিদেশেও চিকিৎসার জন্য যেতে হয়েছিল। সেই পুরোনো চোটের চিকিৎসার কারণেই তিনি পুনরায় সাত দিনের জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্যের শাসক দল বিজেপির তোপের মুখে রয়েছেন তিনি। গত ১৫ বছরের একাধিক দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। সাংসদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে এবং সিআইডি তদন্তও প্রক্রিয়াধীন। বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, আইনি জটিলতার কারণে তিনি বিদেশে গিয়ে ফেরার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, যা আদপে তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

এখন আদালতের জুলাই মাসের শুনানির দিকে তাকিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদি আদালত অনুমতি না দেয়, তবে তিনি উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হন কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।