আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা স্নায়ুযুদ্ধ এবার এক নজিরবিহীন মোড় নিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, ঠিক তখনই সেই প্রস্তাব একপ্রকার নসাৎ করে তেহরান সাফ জানিয়ে দিল—তারা এমন কোনও অনুরোধই করেনি। বরং হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ জারি থাকলে পরিস্থিতি যে আরও ভয়াবহ হবে, সেই ইঙ্গিতই দিয়ে রাখল ইরান।
ট্রাম্পের মেজাজ ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা: মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধানের অনুরোধেই তিনি আপাতত ইরানে হামলা স্থগিত রাখছেন। তবে যুদ্ধবিরতির কথা বললেও নিজের অনড় অবস্থানেই রয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর সাফ কথা:
নৌ-অবরোধ জারি: হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া নজরদারি ও অবরোধ চলবেই।
শর্তসাপেক্ষ আলোচনা: ট্রাম্পের দাবি, ইরান যতক্ষণ না একটি ‘সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব’ পেশ করছে, ততক্ষণ কোনও আলোচনায় বসবে না ওয়াশিংটন।
ফুঁসছে তেহরান: ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরই ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলি সুর চড়িয়েছে। তাদের দাবি, ইরান কখনওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেনি। রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি উল্টে আমেরিকার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ভাঙার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, আমেরিকা অন্যায়ভাবে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘তুসকা’ আটকে রেখেছে।
অনড় ইরান, সংকটে বিশ্ব বাণিজ্য: ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা যতক্ষণ না নৌ-অবরোধ তুলছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে দেওয়া হবে না। আজ সকালেই ভারতগামী একটি জাহাজসহ দুটি জাহাজকে ইরান আটক করায় উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
জেডি ভ্যান্সের সফর বাতিল: উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়েছে যে, হোয়াইট হাউস শেষ মুহূর্তে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছে। ওয়াশিংটনের ধারণা, এই মুহূর্তে আলোচনার চেয়ে পেশিশক্তির আস্ফালনই তেহরানের প্রধান লক্ষ্য।
পরমাণু কর্মসূচি এবং বাণিজ্যিক আধিপত্য নিয়ে দুই শক্তিধর রাষ্ট্রের এই ইঁদুর-বেড়াল লড়াই শেষ পর্যন্ত মহাযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে কি না, এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।





