বিদেশি বিনিয়োগে বড় ছাড় কেন্দ্রের! সরকারি বন্ডে মুনাফায় আর দিতে হবে না কোনো ট্যাক্স

ভারতীয় অর্থনীতির অস্থিরতা কাটাতে এবং বিদেশি বিনিয়োগের ঝোড়ো গতি ফেরাতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভারতীয় সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূলধনী লাভ কর (Capital Gains Tax) সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশি তহবিলের প্রবাহ বাড়ানো, টাকার মান স্থিতিশীল রাখা এবং ঋণ বাজারে তারল্য বাড়াতেই সরকারের এই রণকৌশল।

বর্তমানে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) দীর্ঘমেয়াদী বন্ডে বিনিয়োগের ওপর ১২.৫ শতাংশ হারে মূলধনী লাভ কর দিতে হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সরকারি সিকিউরিটিজ বা বন্ড থেকে প্রাপ্ত লাভের ওপর আর কোনো কর ধার্য করা হবে না। রাষ্ট্রপতির সম্মতির অপেক্ষায় থাকা এই প্রস্তাবটি আয়কর আইন সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে।

চলতি ২০২৬ সালে ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের নজির তৈরি হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রুপির ওপর যে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই সরকার এই কর ছাড়ের পথে হাঁটছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, বর্তমান কর কাঠামো ভারতীয় বন্ডকে অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির তুলনায় কম আকর্ষণীয় করে তুলেছিল। করের বোঝা লাঘব হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীরা পুনরায় ভারতীয় ঋণ বাজারের দিকে ঝুঁকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মূলধনী লাভের ওপর কর ছাড়ের পাশাপাশি, সরকারি বন্ডের সুদের আয়ের ওপর উইথহোল্ডিং ট্যাক্স কমানোর বিষয় নিয়েও সরকার সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে। বর্তমানে এই ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ হতাশাজনক। ৫ শতাংশের পুরনো রেয়তি করহার ফিরিয়ে আনার দাবি দীর্ঘদিনের। বাজারের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের অপেক্ষায় এখন বিনিয়োগকারীরা আরবিআই এবং অর্থমন্ত্রকের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার শক্তিশালী করতে এবং সরকারের জন্য অর্থ সংগ্রহের বিকল্প উৎস তৈরি করতে এই সংস্কার অত্যন্ত জরুরি ছিল। মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপটি কেবল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে না, বরং ভারতীয় আর্থিক বাজারকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। সরকারের এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থায়িত্বের দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, করের এই ছাড় ভারতীয় অর্থনীতিতে ঠিক কতটা গতি সঞ্চার করতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy