বিজেপি-র নতুন সভাপতি নির্বাচন চূড়ান্ত পর্যায়ে, রাজনাথ সিংহের বাসভবনে শীর্ষ নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর নতুন সভাপতি নির্বাচনের লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের লক্ষ্যে বুধবার সকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের লক্ষ্মীকান্ত বাসভবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়েছে, যা এখনও চলছে।
কারা উপস্থিত বৈঠকে?
বিজেপি-র এই ‘স্ট্র্যাটেজি হাব’-এ উপস্থিত রয়েছেন জে পি নদ্দা, ধর্মেন্দ্র প্রধান, মনসূখ মান্ডভিয়া, ভূপেন্দ্র যাদব, মনোহর লাল খট্টার এবং কিরেন রিজিজু-সহ পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় সব বড় নাম। সূত্র জানাচ্ছে, এই বৈঠকের ফলস্বরূপ এই সপ্তাহেই নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করার পথ প্রশস্ত হতে পারে।
দৌড়ে কারা এগিয়ে?
জে পি নদ্দার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পার্টির সাংগঠনিক কাঠামোকে নতুন শক্তি দেওয়ার জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বৈঠকে সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম এবং আসন্ন সাংগঠনিক নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, নতুন সভাপতির নির্বাচনে তিনটি মূল বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে: সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং জাতিগত সমীকরণ। বিশেষত, বিজেপি এবার ওবিসি (OBC) বা অন্যান্য পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর একজন শক্তিশালী নেতাকে সামনে আনতে চায়।
এগিয়ে যাঁরা: ওড়িশা থেকে আসা এবং শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে সফলতা দেখানো ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাম সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং নয়া লোকসভা সদস্য মনোহর লাল খট্টারও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
ডার্ক হর্স: মনসূখ মান্ডভিয়া এবং কিরেন রিজিজুকে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যান্য নাম: শিবরাজ সিং চৌহান এবং বিনোদ তাওড়ের নামও আলোচনায় রয়েছে।
রাজনাথ ও আরএসএস-এর ভূমিকা:
দু’বার সভাপতি পদে থাকা এবং পার্টির ‘মডারেটর’ হিসেবে পরিচিত রাজনাথ সিংহের ভূমিকা এই পুরো প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র জানাচ্ছে, গত মাসে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গেও এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আরএসএস এমন কাউকে সভাপতি হিসেবে চায়, যিনি মোদী-শাহের ‘কাল্ট অফ পার্সোনালিটি’-এর বাইরে থেকে পার্টিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
বর্তমানে বিজেপির সদস্য সংখ্যা ১৮ কোটি ছাড়িয়েছে এবং আরও ৯ কোটি সদস্য যোগ করার লক্ষ্য রয়েছে। নতুন সভাপতিকে এই মেম্বারশিপ ড্রাইভকে সফল করা এবং ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া, এই দুটি বড় দায়িত্ব পালন করতে হবে।