পাক হামলা থেকে উরি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রক্ষা ও ২৫০ গ্রামবাসীর প্রাণরক্ষা, সম্মানিত হলেন ১৯ CISF জওয়ান

ভারত-পাক সংঘাত ছ’মাস অতিক্রম করেছে। তবে সেই উত্তপ্ত সময়ের বহু অজানা বীরগাথা এখনও সামনে আসছে। সম্প্রতি তেমনই এক অসাধারণ সাহসিকতার গল্প প্রকাশ্যে আনল কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF)। কাশ্মীরের উরিতে অবস্থিত এক গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে পাকিস্তানের হামলা থেকে রক্ষা করে প্রাণ বাঁচানোর স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯ জন সিআইএসএফ জওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হলো।
অপারেশন সিঁদুর-এর পাল্টা হামলা:
কাশ্মীরের বারামুলা জেলার বিতস্তা নদীর উপর নির্মিত উরির জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ৬ এবং ৭ মে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরেই পাল্টা পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তান। সেই সময় উরির জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এলোপাথারি ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ শুরু করে তারা।
ঠিক সেই সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন কমান্ড্যান্ট রবি যাদবের নেতৃত্বাধীন সিআইএসএফ-এর ওই ১৯ জন জওয়ান। হামলার মাত্রা বাড়লেও তাঁরা নিজেদের অবস্থান অটুট রেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে থাকেন।
গ্রামবাসীদের প্রাণরক্ষা:
ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধারকার্য: ড্রোন হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি জওয়ানদের আরও এক ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। আশপাশের গ্রামগুলিতে বিস্ফোরণের আতঙ্কে অসংখ্য মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছিলেন।
আলো বন্ধ করে উদ্ধার: পরিস্থিতি বুঝে কেন্দ্রের চারপাশের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে বাসিন্দাদের বের করে আনা হয়। রাতের অন্ধকারে দ্রুত সংগঠিত অভিযানে ২৫০ জনেরও বেশি গ্রামবাসীকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করেন তাঁরা। পাক ড্রোনের নিশানায় যাতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র বা গ্রামটি দৃশ্যমান না হয়, সেই জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় গোটা এলাকার সমস্ত আলো।
উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত:
যুদ্ধসদৃশ পরিস্থিতিতে উরির এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রক্ষায় যে উপস্থিত বুদ্ধি, সাহস এবং মানবিকতার পরিচয় ১৯ জন জওয়ান দেখিয়েছেন, তার প্রশংসা করেছে দেশের প্রতিরক্ষা মহলও। মঙ্গলবার দিল্লিতে সিআইএসএফ-এর এক বিশেষ কর্মসূচিতে এই বীরত্বগাথা তুলে ধরে তাঁদের সম্মান জানানো হয়।
সিআইএসএফ-এর তরফে জানানো হয়েছে, “তাঁরা শুধু দেশের কৌশলগত স্থাপত্যই রক্ষা করেননি, নিরাপদে স্থানান্তরিত করেছেন ২৫০ জন গ্রামবাসীকে। জাতি তাঁদের সাহসিকতায় গর্বিত।”