বিজেপি নেতাদের ভয় দেখানো কথা শুনেই মৃত্যু!’ NRC আতঙ্কে চরম পথ বেছে নেওয়া গৃহবধূর বাড়িতে তৃণমূলের বিশেষ টিম

ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়া (SIR) এবং এনআরসি (NRC) আতঙ্ক ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তরজা চরম আকার ধারণ করেছে। এই আতঙ্কের জেরে রাজ্যে একের পর এক পুরুষ ও মহিলা চরম পদক্ষেপ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে স্বজনহারা পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতা-নেত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ ‘টিম’ গঠন করেছেন।
তাঁর নির্দেশেই শনিবার টিটাগড়ে নিহত কাকলি সরকারের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় আর্থিক সাহায্যও।
টিটাগড়ের ঘটনা: ভয় দেখানো কথা শুনেই মৃত্যু?
গত ৩১ অক্টোবর টিটাগড়ে শ্বশুরবাড়িতেই গায়ে আগুন দিয়ে জীবন শেষ করে দেন ৩৩ বছর বয়সি কাকলি সরকার। যদিও তাঁর সুইসাইড নোটে মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা হয়নি, তবে কাকলির শাশুড়ি দাবি করেন, SIR প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর তাঁর পুত্রবধূ ‘বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া’-র আতঙ্কে ভুগতেন।
এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাটি ভার্চুয়াল বৈঠকে উত্থাপন করে দলীয় কর্মীদের এ বিষয়ে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশেই শনিবার নিহত কাকলির বাড়িতে পৌঁছান মন্ত্রী শশী পাঁজা, তারকা বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী, ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতারা।
বিজেপি নেতাদের দিকে অভিযোগের আঙুল
নিহতের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী শশী পাঁজা সরাসরি বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “স্রেফ আতঙ্কের জেরে অসময়ে একটা প্রাণ চলে গেল।”
শশী পাঁজা বলেন, “পরিবারের থেকে শুনলাম কাকলি টিভিতে বিজেপি নেতাদের ভয় দেখানো সব কথা শুনত। তার জেরে আতঙ্কে ভুগত, যদি তাঁকে দেশ থেকে বাইরে চলে যেতে হয়! ভয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।”
শাসক দলের অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়ার আবহে বিজেপি নেতাদের ‘জ্বালাময়ী’ ভাষণই এই ১৫ জনের মৃত্যুর কারণ। অন্যদিকে, বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূলই উলটে ভোটারদের SIR ও NRC নামে ভয় দেখাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাশে থাকার আশ্বাস
মন্ত্রী শশী পাঁজা নিহত কাকলির পরিবারকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে আমরা আপনাদের পাশে আছি, থাকব। মেয়েরা পড়াশোনা করুক, ভালো থাকুক। যা যা খরচ দরকার, আমরা দিয়ে গেলাম।”