বিজেপি দপ্তরে ভয়ঙ্কর কাণ্ড! দলীয় সম্পাদককে জুতোপেটা করলেন খড়্গপুরের কাউন্সিলর!

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর পৌরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কার্যালয়ে গতকাল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, দলেরই কাউন্সিলর মমতা দাস দলীয় সম্পাদক অশোক সিং-কে জুতোপেটা করেছেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগ।
কী ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্রের খবর, বড় আয়মা এলাকায় একজন চাউমিন বিক্রেতা দোকান দেওয়ার জন্য কাউন্সিলর মমতা দাসের কাছে গিয়েছিলেন। ওই বিক্রেতা অভিযোগ করেন, দোকান করার অনুমতি দেওয়ার জন্য কাউন্সিলর তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে ওয়ার্ডের বিজেপি সম্পাদক অশোক সিং ওই বিক্রেতার বক্তব্য ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। এর প্রতিবাদেই গতকাল সকালে মমতা দাস দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে অশোক সিং-কে জুতো দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
সম্পাদকের বিস্ফোরক অভিযোগ
অশোক সিং এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আড়াই-তিন বছর ধরে কাউন্সিলর ওয়ার্ডে কোনো কাজ করছেন না। সব টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে। গরিব মানুষকে সাহায্য করার বদলে তাদের কাছ থেকেই টাকা চাইছেন।” তিনি জানান, চাউমিন দোকানদারের অভিযোগের ভিডিও ফেসবুকে দেওয়ার পর কাউন্সিলর এতটাই ক্ষিপ্ত হন যে তিনি তাঁর অফিসে ঢুকে জুতো দিয়ে মারতে শুরু করেন।
অশোক সিং আরও অভিযোগ করেন, তিনি কাউন্সিলরকে জিতিয়েছেন, অথচ সেই নেত্রী এখন নিজের বাড়িতে বসে থাকেন এবং ওয়ার্ডের কোনো খোঁজ রাখেন না। “সব দুর্নীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত। প্রত্যেক ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা চাওয়া শুরু করেছেন,” অভিযোগ অশোকের। তিনি বলেন, এর আগেও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছিল। অশোক সিং এই ঘটনার বিচার চেয়ে খড়্গপুর টাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং দলের উচ্চ নেতৃত্বকেও বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি চান, ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করুক এবং শাস্তি দিক।
কাউন্সিলরের নীরবতা
এই বিষয়ে জানতে বিজেপি কাউন্সিলর মমতা দাসের বাড়িতে গেলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, “কিছু বলব না।” দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খড়্গপুর বিজেপির অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।