পঞ্জাব রাজনীতিতে দলবদলের ঝড়ের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হলো এক টানটান উত্তেজনার পর্ব। আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় বড়সড় আইনি প্যাঁচে পড়লেন রাজ্যসভা সাংসদ সন্দীপ পাঠক। সূত্রের খবর, পঞ্জাব পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে দুটি পৃথক জেলায় গুরুতর এফআইআর দায়ের করেছে। মামলাগুলি অ-জামিনযোগ্য ধারায় হওয়ায় তাঁর গ্রেফতারি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। এমনকি, পঞ্জাব পুলিশের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যে দিল্লির আইআইটি-র প্রাক্তন এই অধ্যাপকের বাসভবনে পৌঁছে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সন্দীপের গুরুত্ব:
সন্দীপ পাঠক ২০২২ সালে পঞ্জাবে আপ-এর ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম রূপকার ছিলেন। আইআইটি দিল্লির এই মেধাবী অধ্যাপককে বলা হতো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অন্যতম বিশ্বস্ত সেনাপতি। গত সপ্তাহে রাঘব চাড্ডাসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এই দলবদলকে পঞ্জাব রাজনীতির জন্য এক বিশাল ‘ধাক্কা’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার হঠাৎ বদলে গেল চিত্রনাট্য।
মারাত্মক অভিযোগের পাহাড়:
পঞ্জাব পুলিশের উচ্চপদস্থ এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দুটি ভিন্ন জেলায় এই মামলাগুলি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে যে, সন্দীপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং নারী হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আনেনি পুলিশ। তবে এফআইআর-এ অ-জামিনযোগ্য ধারা যুক্ত থাকায় এটি স্পষ্ট যে, প্রশাসন তাঁকে হেফাজতে নিতে তৎপর। দিল্লির বাসভবন থেকে যেকোনো মুহূর্তে তাঁকে আটক বা গ্রেফতার করা হতে পারে।
বিজেপি বনাম আপ: রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে:
এই ঘটনায় পঞ্জাবের রাজনৈতিক মহল কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। বিজেপির পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, দলবদলকারীদের ভয় দেখাতেই আপ সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা সাজাচ্ছে। অন্যদিকে, সন্দীপ পাঠক নিজে এই ঘটনাকে তাঁর পুরনো দলের ‘ভয়’ হিসেবেই দেখছেন। তিনি জানান, সত্যের পথে হাঁটছেন বলেই তাঁকে হেনস্থা করার চেষ্টা চলছে। আপ-এর পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না মিললেও, অন্দরে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। এখন দেখার, দিল্লির বুক থেকে সন্দীপকে গ্রেফতার করে চণ্ডীগড় নিয়ে আসা হয় কি না।





