রাতে শুয়ে পাশ ফিরলে ঘুম আসে না, সকালে চা দিতে দেরি হলেই শুরু হয় তুমুল ঝগড়া। ভালোবাসা তো ছিল, কিন্তু এখন সবটাই যেন অভ্যেস আর সহ্য করার মতো বোঝা। ডিভোর্স উকিলের শরণাপন্ন হওয়ার আগে জাপানের ওকিনাওয়ার দ্বীপের মানুষদের জীবনের রহস্য একবার জেনে নিন। এই দ্বীপের মানুষরা পৃথিবীর দীর্ঘতম জীবন কাটান এবং তাদের মধ্যে ডিভোর্সের হারও সর্বনিম্ন। তাদের এই অটুট সম্পর্কের রহস্য লুকিয়ে আছে একটি জাদুকরী শব্দে—‘ইকিগাই’ (Ikigai)।
জাপানি ভাষায় ‘ইকি’ মানে বেঁচে থাকা এবং ‘গাই’ মানে কারণ। সহজ কথায়, ‘ইকিগাই’ মানে বেঁচে থাকার সার্থকতা বা কারণ। দাম্পত্যের বিচ্ছেদের মূল কারণই হলো দুজনের বেঁচে থাকার লক্ষ্য ভিন্ন হওয়া। স্বামী চান ক্যারিয়ার নিয়ে এগোতে, স্ত্রী চান পরিবারকে সময় দিতে; স্বামী চান ভ্রমণ, স্ত্রী চান সঞ্চয়। এই উদ্দেশ্য ভিন্নতাই প্রতিদিনের ঝগড়ার ইন্ধন জোগায়।
দাম্পত্যের ঝগড়া কমাতে ৪টি ইকিগাই প্রশ্ন:
আজ রাতেই মোবাইল দূরে সরিয়ে দুজনে মুখোমুখি বসুন। একটি কাগজ নিয়ে এই চারটি প্রশ্ন নিজেদের করুন:
১. তুমি কী ভালোবাসো? ক্রিকেট নাকি বাগান করা? দুজনের পছন্দের মধ্যে কোনো মিল কি আছে? যদি মিলে যায় ‘গান শোনা’, তবে প্রতি শনিবার একসাথে গান শোনার জন্য সময় বের করুন।
২. তুমি কিসে দক্ষ? স্বামী এক্সেলে ভালো হলে স্ত্রী হয়তো মানুষ বুঝতে দক্ষ। দুজনে মিলে কোনো সমাজসেবামূলক কাজ শুরু করুন। লক্ষ্য এক হলে দূরত্ব কমে।
৩. পৃথিবীর বা পাড়ার কী দরকার? দুজনে মিলে ভাবুন আপনাদের এলাকা বা সমাজের কী প্রয়োজন। ছোটদের খেলার মাঠ নেই? তাহলে ছাদে বাগান বা খেলার জায়গা তৈরির উদ্যোগ নিন।
৪. এর বদলে কী পাবে? টাকা নয়, পান মানসিক শান্তি ও সম্মান। যখন দুজনে একটি সাধারণ উদ্দেশ্যের জন্য কাজ করবেন, তখন ‘চা কেন দাওনি’র মতো ছোট ইগো হারিয়ে যাবে।
মনে রাখুন ৩টি সতর্কতা:
জোর করবেন না: ইকিগাই কখনো জোর করে চাপিয়ে দেবেন না। দুজনের পছন্দের মাঝামাঝি কোনো রাস্তা খুঁজুন।
বড় স্বপ্ন নয়: দাম্পত্যের ইকিগাই মানেই চাঁদে যাওয়া নয়। “প্রতি রবিবার এক ঘণ্টা ফোন ছাড়া গল্প” করাও হতে পারে বড় ইকিগাই।
ফলাফলের চিন্তা নয়: ইকিগাই মানে করা, রেজাল্ট নিয়ে ভাবা নয়। আজ ঝগড়া না মিটলে কাল আবার চেষ্টা করুন। ওকিনাওয়ার বৃদ্ধরা ৫০ বছর ধরে একসাথে মাছ ধরছেন, এটাই তাদের বেঁচে থাকার আনন্দ।
ভালোবাসা কখনো মরে না, শুধু হারিয়ে যায় উদ্দেশ্যহীনতায়। আজ রাতে ঝগড়া না করে এই ৪টি প্রশ্নের মাধ্যমে একে অপরকে নতুন করে চিনুন। দেখবেন, তুচ্ছ ঝগড়ার কারণগুলো নিজেই ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাচ্ছে।





