ভারতে জরায়ুমুখের ক্যানসারের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ১,২৭,০০০ নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৮০,০০০ মহিলার মৃত্যু ঘটছে এই মারণরোগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে না পারাই এই মৃত্যুর প্রধান কারণ। তবে স্বস্তির খবর হলো, দীর্ঘদিনের ব্যয়বহুল পরীক্ষার জটিলতা কাটিয়ে এবার সাশ্রয়ী ও ঘরোয়া পদ্ধতিতে এই ক্যানসার নির্মূলের স্বপ্ন দেখছেন চিকিৎসকরা।
কেন এই নতুন পদ্ধতির প্রয়োজন?
ঝাজ্জরের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট (এনসিআই)-এর প্রধান ডা. নীরজা ভাটলার মতে, এইচপিভি (HPV) পরীক্ষা ক্যানসার শনাক্তকরণের গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হলেও এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রচলিত ‘ভিআইএ’ (VIA) পরীক্ষাটি সস্তা হলেও এর প্রচার ও কার্যকারিতা সীমিত। এই সংকট কাটাতে প্রয়োজন ‘পয়েন্ট-অফ-কেয়ার’ (PoC) টেস্টিং। এই পরীক্ষায় ল্যাবে নমুনা পাঠানোর প্রয়োজন নেই, ঘটনাস্থলেই তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
২০৩০-এর লক্ষ্য ও উদ্ভাবন:
ডা. নীরজা জানান, যদি সহজলভ্য ও সস্তা PoC HPV পরীক্ষা গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো যায়, তবে ‘আশা’ কর্মীরাই এই স্ক্রিনিং করতে পারবেন। এর ফলে ৩৫ ও ৪৫ বছর বয়সে মাত্র দুবার পরীক্ষা করিয়েই একজন মহিলা নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। বর্তমানে ভারতে তৈরি এইচপিভি টেস্টের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা চলছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মানদণ্ড পূরণ করে। এই কিটগুলো জেলা ও মহকুমা স্তরে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই।
দেশীয় প্রযুক্তির জয়যাত্রা:
ডা. নীরজা আরও বলেন, আগে যেসব পরীক্ষা ব্যবহৃত হতো, সেগুলো মূলত উন্নত দেশগুলোর উপযোগী করে তৈরি। কিন্তু নতুন এই গবেষণা প্রমাণ করছে যে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্ল্যাটফর্মগুলো গুণগত মান ও নির্ভুলতায় বিশ্বমানের পরীক্ষার সমতুল্য। এটি ভারতের জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধের লড়াইয়ে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করবে।
স্ক্রিনিং কেন জরুরি?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৩০ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের প্রতি ৩-৫ বছর অন্তর স্ক্রিনিং করানো বাধ্যতামূলক। বর্তমানে জাতীয় কর্মসূচিতে জরায়ুমুখের ক্যানসারের স্ক্রিনিং থাকলেও, সচেতনতার অভাবে বেশিরভাগ মহিলাই পরীক্ষা করান না। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বড় যন্ত্রপাতির অভাব ও উচ্চমূল্য এই স্ক্রিনিংয়ের পথে প্রধান বাধা। নতুন এই PoC টেস্টিং সেই বাধা দূর করে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে জরায়ুমুখের ক্যানসারমুক্ত করার লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চিকিৎসকদের এই উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে দেশের লক্ষ লক্ষ নারীর জীবন বাঁচাতে আশার আলো দেখাচ্ছে।





