বিচারপতির চেম্বারে আচমকা সুজিত বসুর আইনজীবীর লোক! চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বড় ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন মন্ত্রী

রাজ্যের রাজনীতিতে ফের তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর জামিনের মামলা থেকে হঠাৎ করেই অব্যাহতি নিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তাঁকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে ইতিপূর্বে রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। কিন্তু গত ১৮ আগস্ট এই সংক্রান্ত বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে, যার জেরে বিচারপতি নিজেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে এবং আইনি লড়াইয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী আরও গভীরে বিপাকে পড়লেন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাসে প্রকাশ্যে জানান যে, এই মামলার শুনানি সম্পূর্ণ হওয়ার পরেও আবেদনকারী সুজিত বসুর পক্ষের কোনো এক আইনজীবী বিচারপতির অনুপস্থিতিতে তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বারে প্রবেশ করেন। শুধু তাই নয়, ওই আইনজীবী বিচারপতির ব্যক্তিগত সেক্রেটারিকে তাঁর চেম্বারে থাকা নির্দিষ্ট ফাইলটি নিয়ে আসার জন্য চাপ দেন। বিচারপতির স্পষ্ট বক্তব্য, আদালতের বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন এই ধরনের অপ্রত্যাশিত আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নজিরবিহীন। এই গুরুতর বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করেন এবং তারপরেই সুজিত বসুর এই মামলা থেকে নিজের নাম সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেন।
এদিকে, বিচারপতির এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর সুজিত বসুর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, তাঁদের দলের বা আইনি টিমের কোনো সদস্য বিচারপতির চেম্বারে যাননি। তবে প্রোটোকল ভেঙে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর মামলাটি এখন পুনরায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির এজলাসে স্থানান্তরিত হয়েছে। তিনিই এখন ঠিক করবেন যে আগামী দিনে কোন বেঞ্চ বা বিচারপতি এই জামিনের মামলার পরবর্তী শুনানি পরিচালনা করবেন। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারপতির এই পদক্ষেপ মামলার গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক পরপরই বহু আলোচিত পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে জোরালো সওয়াল করে জানানো হয়েছিল যে, ৩০০ জনেরও বেশি প্রার্থীকে উৎকোচ বা টাকার বিনিময়ে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় অবৈধভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন সুজিত। এমনকি সেই সংক্রান্ত শক্তপোক্ত ডিজিটাল ও কাগজের নথিও ইডির হাতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর পালটা সওয়ালে সুজিত বসুর বিশিষ্ট আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে যুক্তি দেন যে, এই দুর্নীতি মামলার প্রথম দুটি চার্জশিটে সুজিত বসুর নাম কোথাও ছিল না। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে সিবিআই এফআইআর দায়ের করার অনেক পরে, অর্থাৎ ২০২৬ সালে এসে তাঁকে আকস্মিক গ্রেফতার করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত জুলাই মাসেই এই মামলায় সুজিত বসুর পাশাপাশি তাঁর পুত্র সমুদ্র বসু, তাঁদের দুটি সংস্থা এবং ওই সংস্থার তৎকালীন ডিরেক্টর জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এখন দেখার বিষয়, নতুন বেঞ্চে এই আইনি লড়াই কোন মোড় নেয়।