“বিচারক ঘেরাও কাণ্ডে বিরাট অ্যাকশন!”-মালদার ADM-কে জোড়া শোকজ DM-এর

মালদার কালিয়াচকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ৯ ঘণ্টা আটকে রাখা এবং তাঁদের ওপর হামলার ঘটনায় এবার প্রশাসনের অন্দরেই শুরু হলো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ। ডিউটিরত অবস্থায় গাফিলতি এবং অনুমতি ছাড়া বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে অতিরিক্ত জেলা শাসক (L&O) শেখ আনসার আহমেদ-কে দুটি পৃথক শোকজ নোটিশ পাঠালেন জেলা শাসক রাজানভীর সিং কাপুর। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাঁকে এই নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, গত ৩১ মার্চ কালিয়াচকের বিডিও অফিসে যখন বিচারকরা বন্দি ছিলেন, তখন শেখ আনসার আহমেদ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মূলত তিনটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে:

অনুমতিহীন মন্তব্য: SIR (Supplementary Information Report) প্রক্রিয়া নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে বক্তব্য রাখেন তিনি।

ক্ষমতার অপব্যবহার: অভিযোগ উঠেছে, তিনি জনতাকে এমন কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যা দেওয়ার এক্তিয়ার তাঁর নেই। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে SIR শুনানির তারিখ বাড়িয়ে দেবেন— অথচ এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত।

কর্তব্যে গাফিলতি: বিচারকদের যখন খাবার-জল ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরে তাঁদের গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল, তখন এডিএম সেখানে সশরীরে উপস্থিত থেকেও কেন ‘নীরব’ ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জেলা প্রশাসন।

জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ
জেলা শাসকের পাঠানো নোটিশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, শেখ আনসার আহমেদের এই ধরনের মন্তব্য সাধারণ মানুষের মনে অযথা প্রত্যাশা তৈরি করেছে। একজন উচ্চপদস্থ আমলার কাছ থেকে এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কাম্য নয়। এই শোকজ নোটিশের কপি ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব, মালদহের পুলিশ সুপার এবং জেলা জজকেও পাঠানো হয়েছে।

স্মরণীয় সেই অভিশপ্ত দিন
উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ কালিয়াচকের বিডিও অফিসে ৩ জন মহিলাসহ মোট ৭ জন বিচারককে প্রায় ৯ ঘণ্টা আটকে রেখেছিল একদল উন্মত্ত জনতা। তাঁদের উদ্ধারের সময় গাড়িতে ইট-পাটকেল ও লাঠি দিয়ে হামলা চালানো হয়। খোদ বিচারকদের ওপর এমন নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছিল গোটা রাজ্যে। এবার সেই ঘটনার জেরেই প্রশাসনিক স্তরে কোপ পড়ল এডিএম-এর ওপর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy