বিগ বাজেট পুজোয় আন্তর্জাতিক চমক! থাইল্যান্ডের অসমাপ্ত মিউজিয়ামের আদলে তৈরি মণ্ডপ কাঁপছে পশ্চিমবঙ্গে

প্রতি বছরই অভিনব থিম এবং বিশাল বাজেটের জন্য নজর কাড়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের মার্কনি দক্ষিণ পল্লী সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। এবার তাদের ৬৫তম বর্ষের পুজোয় চমক হিসেবে উঠে এসেছে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত এবং অসমাপ্ত মিউজিয়াম ‘স্যাংচুয়ারি অফ ট্রুথ’-এর আদলে তৈরি চোখধাঁধানো মণ্ডপ।

তৃতীয়ার দিন উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই এই বিশাল মণ্ডপটি দেখতে দর্শনার্থীরা দলে দলে ভিড় জমাচ্ছেন দুর্গাপুরে।

১১ ফিট উচ্চতার কাঠের স্থাপত্য
থাইল্যান্ডের পাটায়ায় অবস্থিত এই মিউজিয়ামটি মন্দির ও দুর্গের সংমিশ্রণে তৈরি। সেই স্থাপত্যের আদলেই দুর্গাপুরে গড়ে উঠেছে প্রায় ১১০ ফুট উচ্চতার এক বিশাল মণ্ডপ।

মণ্ডপসজ্জা: প্রায় তিন হাজার স্কোয়্যার ফুট এলাকাজুড়ে কাঠের তৈরি এই মণ্ডপটি অসাধারণ সূক্ষ্ম কারুকার্যে ভরা। কাঠ, বাঁশ, প্লাইউড, বালি ও কাঠের গুঁড়ো সহ সমস্ত পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে এই নির্মাণে।

ভেতরের সজ্জা: মণ্ডপের অন্দরমহলে বাটি, চামচ ও স্টিলের সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি নানান আকর্ষণীয় নকশা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।

শিল্পী: মেদিনীপুরের কাঁথির সুখ্যাত শিল্পী সুতনু মাইতি প্রায় তিন-চার মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রমে এই বিশালাকার থাই কারুকার্যে ভরপুর মণ্ডপটি তৈরি করেছেন।

পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক দেবাশিস তা ও অশোক ভট্টাচার্য জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তাঁদের আকর্ষণীয় থিম দর্শকদের নজর কেড়েছে। গতবার তাঁরা কর্ণাটকের চেন্নাকেশব বিষ্ণু মন্দিরের আদলে মণ্ডপ গড়ে তাক লাগিয়েছিলেন।

বিশাল বাজেট এবং ‘বিশ্ববাংলা সেরা’ শিরোপা
এই বছর পুজো কমিটির বাজেট প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। তবে শুধু চোখধাঁধানো মণ্ডপ নয়, তাদের আকর্ষণীয় প্রতিমা এবং আলোকসজ্জাও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।

প্রতিমা: দুর্গাপুরের সুখ্যাত মৃৎশিল্পী অরুণ পাল প্রায় ১৬ ফুট উচ্চতার প্রতিমা তৈরি করেছেন, যাতে আধুনিকতার ছোঁয়া রয়েছে।

সাফল্য: এই পুজো কমিটি এখনও পর্যন্ত আটবার ‘বিশ্ববাংলা সেরা’ শিরোপা লাভ করেছে, যা এই মণ্ডপের মান এবং অভিনবত্বের প্রমাণ দেয়।

তৃতীয়া থেকে দিনরাত উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে দিয়েছে যে এই বছরও দুর্গাপুরের এই আন্তর্জাতিক থিমের পুজো দর্শনার্থীদের মন জয় করেছে।