রাজস্থানের জয়পুরের খোহ নাগোরিয়ান এলাকার আয়েশা নগর তালাই কলোনিতে মঙ্গলবার সকালে ঘটল এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ও কুণ্ডলী পাকানো কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। একটি বাড়িতে বেআইনিভাবে মজুত রাখা বাজি ও বারুদের স্তূপ থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
বিস্ফোরণের ভয়াবহতা ও হতাহতের তালিকা:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে বাড়িটি দ্রুত আগুনের গ্রাসে চলে যায়। প্রাণ বাঁচাতে শ্রমিকদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। বহু শ্রমিক আগুনের মধ্যেই আটকা পড়ে যান। স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও আগুনের প্রকোপে অনেকেরই মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন সমীর, আজিম, নাসির, আবদুল ওয়াহিদ, রাবিল, বিলাল ও আশরফ। আরও এক জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। জয়পুরের এসএমএস হাসপাতাল এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অধিকাংশের মৃত্যু হয়। একজনকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল।
প্রশাসনের ভূমিকা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ:
এই ঘটনায় স্থানীয় কিষাণপোলের বিধায়ক আমিন কাজি প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দিনের পর দিন কীভাবে এমন বেআইনি বাজি কারখানা ও গুদাম পরিচালিত হচ্ছিল? তিনি সরাসরি পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে বাজি কারখানার মালিকের যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই বাড়িতে দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা হয়েছিল, যা এলাকার বাসিন্দাদের জীবনের প্রতি ছিল চরম হুমকি।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
জয়পুরের পুলিশ কমিশনার সচিন মিত্তল জানিয়েছেন, বাড়িটি মূলত বাজির গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সেখানে বাজি তৈরির কাজও চলত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি জেলা প্রশাসনকে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটও এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন।
উল্লেখযোগ্য, গত কয়েক মাসের ব্যবধানে এটি রাজস্থানে দ্বিতীয় বড় বাজি বিস্ফোরণের ঘটনা। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে খৈরতল-তিজারা জেলার ভিওয়াড়িতেও অনুরূপ একটি দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে এবং গুদাম মালিককে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেন এমন মারাত্মক ঝুঁকি নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে চলছে প্রশাসনিক স্তরে দায়বদ্ধতার তদন্ত।





