বিএসএনএল-এর রজতজয়ন্তী, দেশীয় ৪জি প্রযুক্তিতে ৯৭,৫০০ সাইটের উদ্বোধন

ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (BSNL) তাদের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সংস্থাটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে (Swadeshi 4G Technology Stack) নির্মিত ৯৭ হাজার ৫০০টি ৪জি মোবাইল টাওয়ার সাইট চালু করেছে। সংস্থার দাবি, এটি কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, আত্মনির্ভর ভারতের পথে এক বড় পদক্ষেপ। এর ফলে ভারত বিশ্বের সেই পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান পেল, যারা নিজস্ব ৪জি টেলিকম স্ট্যাক মোতায়েন করতে সক্ষম।

স্বদেশী প্রযুক্তির ভিত্তি ও ৫জি প্রস্তুতি
বিএসএনএল-এর এই ৪জি পরিষেবার মূল বৈশিষ্ট্য হলো সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির নির্ভরতা:

টেকনোলজি স্ট্যাক: এতে রয়েছে তেজস নেটওয়ার্কস নির্মিত রেডিও অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক, সি-ডট (C-DOT) নির্মিত কোর নেটওয়ার্ক এবং টিসিএস (TCS) সিস্টেম ইন্টিগ্রেটর।

৫জি রূপান্তর: এই প্ল্যাটফর্মটি ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত, কারণ এটি সফটওয়্যার আপগ্রেডের মাধ্যমে সহজেই ৫জি-তে রূপান্তরযোগ্য। বর্তমানে চণ্ডীগড় ও আম্বালায় ৫জি পরীক্ষামূলক ট্রায়াল চলছে।

আর্থিক পুনর্জন্ম ও গ্রামীণ সংযোগ
বহু বছর ধরে ক্ষতির বোঝা টানার পর বিএসএনএল টানা দুটি ত্রৈমাসিকে লাভের মুখ দেখেছে:

মুনাফা: গত আর্থিক বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ১,২৬২ কোটি টাকা এবং চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ২,২৮০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে সংস্থাটি।

নতুন টাওয়ারগুলির মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার ৯০০টি টাওয়ারে ডিজিটাল ভারত নিধি (DBN) অর্থ জুগিয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে:

প্রায় ২৬,৭০০টি দুর্গম, সীমান্তবর্তী ও বাম চরমপন্থা প্রভাবিত গ্রাম সংযুক্ত হবে।

প্রায় ২০ লক্ষ নতুন গ্রাহক ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হবেন।

টাওয়ারগুলি সৌরশক্তি চালিত, যা দেশের বৃহত্তম গ্রিন টেলিকম পরিকাঠামো ক্লাস্টার তৈরি করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা সার্কেলের চিত্র
কলকাতা টেলিফোনস জেলা (কলকাতা, উত্তর-দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি): ১,৫৯৬টি ৪জি সাইট চালু হয়েছে, খরচ হয়েছে প্রায় ৮,৩৮৪ কোটি টাকা। এই সার্কেলে ২৫ লক্ষ গ্রাহক থেকে গত আর্থিক বছরে রাজস্ব এসেছে ৪৮৪ কোটি টাকা।

পশ্চিমবঙ্গ টেলিকম সার্কেল (কলকাতা বাদে): ২,১৪৮টি ৪জি সাইট চালু হয়েছে, খরচ হয়েছে প্রায় ২,৭৮২ কোটি টাকা। ২৬ লক্ষ গ্রাহকের ভিত্তিতে রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে ৪৮২ কোটি টাকা।

বিএসএনএল সিএমডি এ. রবার্ট জে. রবি আইটিএস জানিয়েছেন, এই রজতজয়ন্তী দেশীয় ৪জি-র জাতীয় স্তরে পৌঁছানোর প্রতীক এবং সাশ্রয়ী, নিরাপদ, টেকসই সংযোগ দেওয়ার মাধ্যমে এটিই সংস্থার ৫জি-র দিকে যাত্রার গতিপথ।