বিএড কলেজ নিয়ে নয়া সরকারের বড় পদক্ষেপ! এবার থেকে বায়োমেট্রিক ও সিসিটিভি বাধ্যতামূলক

রাজ্যে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বেসরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কড়া নজরদারি বজায় রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নয়া সরকার। গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বেসরকারি বিএড (B.Ed) কলেজগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব ছিল ওয়াকিবহাল মহল। শিক্ষক নিয়োগে বেনিয়ম, পরিকাঠামোর অভাব, এবং ভুয়ো শিক্ষকতার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর, এবার নড়েচড়ে বসল রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর। অনিয়ম রুখতে এবং পঠনপাঠনের মান ফিরিয়ে আনতে বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে একটি কড়া নির্দেশনামা পাঠিয়েছে দফতর।

উচ্চশিক্ষা দফতরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে রাজ্যের প্রতিটি বেসরকারি বিএড কলেজে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের জন্য বায়োমেট্রিক উপস্থিতি (Biometric Attendance) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অতীতে অভিযোগ উঠেছিল, অনেক শিক্ষক একই সঙ্গে একাধিক কলেজে শিক্ষকতা করছেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে পড়াশোনা না করেই ডিগ্রি পাওয়ার অভিযোগও ছিল। বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে এই ধরনের জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে শিক্ষা মহল।

শুধু হাজিরাই নয়, প্রতিটি ক্লাসরুমের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ক্লাসরুমের প্রতিটি রেকর্ডিং অন্তত এক মাস সংরক্ষণ করতে হবে এবং সেই তথ্য রিয়েল-টাইমে উচ্চশিক্ষা দফতরের পোর্টালে ডিজিটালি শেয়ার করতে হবে। এর পাশাপাশি, বেসরকারি বিএড কলেজগুলোর পরিকাঠামো, শিক্ষকের যোগ্যতা এবং অ্যাকাডেমিক মান খতিয়ে দেখার জন্য কঠোর পরিদর্শন বা অডিট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে বেসরকারি বিএড কলেজগুলোর অনুমোদন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কীভাবে একের পর এক কলেজ খোলা হয়েছিল, তা নিয়ে জনমানসে ক্ষোভ ছিল দীর্ঘদিনের। নয়া সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে। নতুন অনুমোদন দেওয়া বা পুরনো অনুমোদনের নবীকরণের ক্ষেত্রে প্রতিটি কলেজকে এখন থেকে নতুন গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। এই নির্দেশিকা অমান্য করলে বা কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর।

এই বায়োমেট্রিক ও সিসিটিভি নজরদারির বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাবিদদের একাংশ সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি দেশের অন্য কোনো রাজ্যে সচরাচর দেখা যায় না, তাই এটি একটি সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নিয়ম না মানলে এবং গুণমান বজায় না রাখলে ডিগ্রি পাওয়ার দিন শেষ। রাজ্যের হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীর ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং শিক্ষক তৈরির কারখানাগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করতে নয়া সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কি সত্যিই সফল হবে? তা এখন দেখার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।