বাসন মাজা হাতেই এবার বিধানসভার রাশ! অন্যের বাড়ি কাজ করা কলিতা মাঝি এখন বিধায়ক, ইতিহাস বঙ্গে

রূপকথার গল্পকেও হার মানায় এই বাস্তব। যে হাত কয়েকদিন আগেও অন্যের রান্নাঘরে বাসন মেজে সংসার টানত, আজ সেই হাতই গড়বে বাংলার ভবিষ্যৎ। পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন কলিতা মাঝি। নুন আনতে পান্তা ফুরানো এক সাধারণ ঘর থেকে উঠে এসে আজ তিনি বিধানসভার সদস্য। তাঁর এই অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের কাহিনী এখন কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা।

পূর্বস্থলীর বাসিন্দা কলিতা মাঝির জীবন সংগ্রামের কথা এলাকার কারোর অজানা নয়। অভাবের সংসার চালাতে অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন তিনি। মাসিক বেতন ছিল মাত্র ২৫০০ টাকা। স্বামী দিনমজুর, তাই হাড়ভাঙা খাটুনি ছাড়া গতি ছিল না। কিন্তু স্বপ্ন দেখার সাহস হারাননি কলিতা। সেই অদম্য জেদ আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছাই আজ তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে জয়ের শিখরে।

চরম দারিদ্র্য বনাম অদম্য জেদ: নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, কলিতার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ নগণ্য। প্রচারের সময়ও তিনি সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছেন খুব সাধারণভাবেই। তাঁর বিরুদ্ধে ছিলেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা, ছিল বিপুল অর্থবলের লড়াই। কিন্তু মাটির মেয়ের ওপর মানুষের ভরসা যে কতটা গভীর, তা ব্যালট বক্সের ফলাফল প্রমাণ করে দিল।

জয়ের পর যা বললেন কলিতা: ফল ঘোষণার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন নবনির্বাচিত এই বিধায়ক। তিনি জানান, “আমি কোনোদিন ভাবিনি এই জায়গায় পৌঁছাব। বিধায়ক হওয়া মানে বড় পদ পাওয়া নয়, বরং মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়া। যারা আমাকে বিশ্বাস করেছেন, তাঁদের জন্য প্রাণ দিয়ে কাজ করব।”

রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসে কলিতা মাঝির এই জয় এক মাইলফলক। এটি প্রমাণ করল যে, গণতন্ত্রে আসল ক্ষমতা সাধারণ মানুষের হাতেই থাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলিতার এই সফর আগামীর লড়াকু নারীদের জন্য এক নতুন দিকনির্দেশনা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy