বালাসন নদীতে তলিয়ে গেল পর্যটকবাহী গাড়ি! অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন চার যুবক-যুবতী

দার্জিলিং জেলার পাহাড়িয়া রাস্তায় একের পর এক দুর্ঘটনার ঘটনা ফের একবার পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে দিল। মঙ্গলবার রাতে দুধিয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী চারচাকা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা বালাসন নদীর গভীরে পড়ে যায়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যবর্তী সময়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গাড়িটিতে দু’জন যুবক এবং দু’জন যুবতী সওয়ার ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ঠিক পরেই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের রেলিং ভেঙে সোজা নদীর জলে গিয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গাড়িটির গতি অত্যন্ত বেশি ছিল এবং দুর্ঘটনার সময় সওয়ারি চারজনই মত্ত অবস্থায় ছিলেন। যদিও পুলিশের তরফে এখনও এই দাবির কোনো সরকারি সত্যতা বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধারকার্যের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তাঁদের তৎপরতায় গাড়ি থেকে আটকে থাকা ওই চারজনকে কোনোমতে নদী থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর দ্রুত তাঁদের নিকটবর্তী সুকনা ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। তবে চারচাকা গাড়িটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তা এখনও নদীর জলে ডুবে রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে—চালক মত্ত ছিলেন কি না অথবা যান্ত্রিক কোনো গোলযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি রাস্তায় দুর্ঘটনার ঘটনা এই সপ্তাহে এই নিয়ে দ্বিতীয়। অতি সম্প্রতি রক গার্ডেনে যাওয়ার পথে একটি চারচাকা গাড়ি চড়াই-উতরাই রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গার্ডওয়ালে ধাক্কা মেরে ঝুলন্ত অবস্থায় আটকে গিয়েছিল। স্থানীয়দের সাহসিকতায় সে যাত্রায় চালককে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল। পাহাড়ে গত কয়েকদিন ধরে টানা দুর্যোগ চলছে। অবিরাম বৃষ্টির ফলে রাস্তাঘাট অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে রয়েছে, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

একই সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি বড় দুর্ঘটনা উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে আতঙ্কের ছাপ ফেলেছে। যদিও উভয় ক্ষেত্রেই অলৌকিকভাবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবুও পর্যটকদের সুরক্ষার বিষয়ে পাহাড়ের রাস্তাগুলোতে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও অভিজ্ঞ চালকরা। পুলিশি তদন্তের পরেই জানা যাবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাতে এই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়েছিল।