বারুইপুর কাণ্ডে আরও ২২ জন গ্রেফতার, মোট গ্রেফতার ৪০! এনকাউন্টারের পর পুলিশি অ্যাকশনে থমথমে এলাকা

বারুইপুর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির পর এবার কঠোর আইনি পথে হাঁটছে প্রশাসন। রবিবার নাবালিকার দেহ নিয়ে বিক্ষোভ, পুলিশের ওপর হামলা, রাস্তা অবরোধ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন করে আরও ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে বুধবার এই ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যার ফলে বর্তমানে ধৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৪০-এ। পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনার সময়কার বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ধৃতদের আজ বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।
রবিবার বারুইপুরের ঘটনাটি ছিল ভয়াবহ। নির্যাতিতার দেহ রাস্তায় রেখে চলা বিক্ষোভে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ও কাঁচের বোতল ছোড়া হয়। এমনকি রেললাইন উপড়ে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগও ওঠে। এই তাণ্ডবের মধ্যে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামক ৩৫ বছর বয়সী এক যুবকের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়, যিনি পরবর্তীকালে নির্দোষ বলে প্রমাণিত হয়েছেন। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বারুইপুরে গিয়ে ঘটনার কঠোর নিন্দা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় দোষীদের যেমন সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা হবে, তেমনই তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
অন্যদিকে, ধর্ষণ ও খুনের মূল ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বড় সাফল্য পেয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থেকে যৌথ অভিযানে কবির মোল্লা নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বারুইপুর এসওজি, এসটিএফ এবং জেলা পুলিশের যৌথ দল এই অভিযানে অংশ নেয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য রাত পৌনে একটার সময় প্রভাসকে সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সে পুলিশের সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়, যাতে প্রভাসের মৃত্যু হয়।
বর্তমানে নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বারুইপুর, সোনারপুর এবং নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। এলাকায় বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসন ও পুলিশ উভয়ই অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।