বারুইপুরের নৃশংসতার পরই কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর! রাজ্যজুড়ে এবার মদ ও মাদকের ঠেক ভাঙার নির্দেশ

বারুইপুরের নৃশংস ও মর্মান্তিক ঘটনার পরেই অপরাধের নেপথ্যে থাকা মূল কারণগুলিকে চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সূর্যপুরে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনের পর তিনি আক্রান্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। এরপরই তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক ও পুলিশি কর্তাদের সামনে অপরাধ দমনে বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, যে কোনো জঘন্য অপরাধের নেপথ্যে সাধারণত কিছু সামাজিক ব্যাধি কাজ করে। বারুইপুরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বেআইনি মদের কারবার এবং মাদকের বিস্তার বর্তমান সময়ে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। সমাজকে এই দূষণ থেকে মুক্ত করতে এবার গোটা রাজ্যে বড়সড় পুলিশি অভিযান চালানো হবে। প্রশাসনের দাবি, শুধুমাত্র অপরাধ ঘটে যাওয়ার পর তদন্ত করাই যথেষ্ট নয়, অপরাধের জন্মস্থান বা উৎসস্থলগুলিকেও নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য পুলিশের ডিজিপি-কে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য রাজ্যজুড়ে একটি বিশেষ ও নিবিড় অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই অভিযানে কেবল স্থানীয় থানার পুলিশই নয়, প্রয়োজনে ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ কর্মীদেরও যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি জেলার নিজস্ব ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিস্থিতির নিরিখে এই অভিযান পরিচালনা করতে হবে। প্রতিটি জেলার এসপি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো এলাকাতেই বেআইনি মদের ঠেক বা মাদক পাচারের কোনো চক্র মাথাচাড়া দিতে না পারে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বিশেষ এই তল্লাশি অভিযানে বেআইনি মদের ভাটি, মাদক পাচারের সম্ভাব্য কেন্দ্রবিন্দু এবং অসামাজিক কার্যকলাপের আস্তানাগুলোকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশকে আরও বেশি সক্রিয় ও দায়িত্ববান হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপে যারা জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে সরকারের এই কঠোর অবস্থান কতটা ফলপ্রসূ হয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের। দুই সপ্তাহের এই বিশেষ অভিযানের ফলে রাজ্যের অপরাধচিত্র অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহলের একাংশ।