বারুইপুরকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়! হাসপাতালের খাটের নিচ থেকে ধৃত ৩, মূল অভিযুক্ত-সহ জালে ৫

বারুইপুরের ১২ বছরের নাবালিকা ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনায় কার্যত রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এলাকায়। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সরদার-সহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের খাট থেকে উদ্ধার করা হয় আরও তিন অভিযুক্তকে। পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বলয় ও উত্তেজিত জনতার ভিড় সামলে এই তিনজনকে বারুইপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার, ৫ জুলাই। প্রথম গ্রেফতারির পর পুলিশি জেরায় আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসে। সোমবার দুপুরেই বারুইপুর বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আনন্দ সরদারকে। এরপর সোমবার ৬ জুলাই সারারাত জুড়ে তল্লাশি চালিয়ে বাকি তিনজনকে খুঁজে বের করে পুলিশ। বারুইপুর প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্কর প্রসাদের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে এই দল কাজ করছে। এলাকা জুড়ে জারি করা হয়েছে BNS-এর ১৬৩ নম্বর ধারা। অশান্তি এড়াতে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুর থানা এলাকায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এলাকার প্রতিটি মোড়ে মোড়ে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই নৃশংসতার প্রতিবাদে সরব হয়েছে রাজনৈতিক মহল। মঙ্গলবার সকালেই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল বারুইপুরে পৌঁছে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। অন্যদিকে, বিষয়টি এখন আর শুধু স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) এই ঘটনার স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজিপির কাছে ৭ দিনের মধ্যে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ (ATR) তলব করেছে কমিশন। এফআইআর, গ্রেফতারি, পুলিশের গাফিলতি এবং পরিবারকে কী সহায়তা দেওয়া হয়েছে—এই সব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে বারুইপুরের আকাশ-বাতাস এখন ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল। স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে মানবাধিকার সংগঠন—সকলেই এখন দোষীদের কঠোরতম শাস্তির অপেক্ষায়। এলাকায় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আঁচ ক্রমশ বাড়ছে। পুলিশ ও প্রশাসন কি এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়বে? সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন।