প্রবাদ আছে, ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’। সেই অমোঘ টানেই এবার উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে সুদূর কলকাতায় সস্ত্রীক ছুটে এসেছেন ৭৮ বছরের রামনাথ। লক্ষ্য একটাই— মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে কপিল মুনির আশ্রমে ডুব দিয়ে আজন্মের সুপ্ত বাসনা পূরণ করা। আধ্যাত্মিক বিচারে কুম্ভের শহর প্রয়াগরাজের বাসিন্দা হয়েও রামনাথের কাছে এবার গঙ্গাসাগরই অগ্রাধিকার।
বাবুঘাটে আস্ত এক ‘মিনি ভারত’
গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে কলকাতার বাবুঘাট লাগোয়া ট্রানজিট ক্যাম্পে এখন সাজ সাজ রব। রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে শুরু করে তামিলনাড়ু— দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা এসে ভিড় জমিয়েছেন এখানে। ভাষা আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা, কিন্তু উদ্দেশ্য এক— সাগরের পবিত্র স্নান। যেন একটুকরো অখণ্ড ভারত এখন ধর্মতলার বাবুঘাটে আশ্রয় নিয়েছে।
৭৮-এর রামনাথের আবেগঘন সফর
রামনাথের জীবনে এটাই প্রথম গঙ্গাসাগর যাত্রা। প্রয়াগরাজের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও এখনও তাঁর কুম্ভ স্নান করা হয়নি। রামনাথ বলেন, “৮০ ছুঁতে চলল বয়স, কতদিন আর বাঁচব জানি না। ইচ্ছে ছিল আগে সাগরে স্নান করব, তারপর কুম্ভ। শরীর দুর্বল হয়েছে কিন্তু মনের জোর কমেনি।” সড়কপথে এক দীর্ঘ পথ পেরিয়ে শনিবার তিনি ও তাঁর স্ত্রী পৌঁছেছেন কলকাতার শিবিরে।
উৎসবের মেজাজে ট্রানজিট ক্যাম্প
সংক্রান্তির আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। শনিবার থেকেই বাবুঘাটের শিবিরে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর ভিড়।
বিনামূল্যে আহার: লঙ্গরখানাগুলিতে চলছে দেদার ভোজন। খিচুড়ি থেকে সবজি-পুরি— ভিন্ন স্বাদের খাবারে আপ্যায়ন করা হচ্ছে তীর্থযাত্রীদের।
সাধু-সন্তদের মেলা: শিবিরের ভেতরে-বাইরে বসেছে ছোট ছোট মেলা। চলছে যজ্ঞ, মন্ত্রোচ্চারণ এবং আধ্যাত্মিক আলোচনা। কেউ কিনছেন শাড়ি, কেউ বা দেবদেবীর ছবি।
অস্থায়ী বসতি: তাঁবু কিংবা বাসের সিটই এখন পুণ্যার্থীদের অস্থায়ী ঠিকানা। রবিবার ভোর হতেই সবাই রওনা দেবেন সাগরের পথে।
প্রশাসনের প্রস্তুতি
ভিড় সামলাতে প্রস্তুত প্রশাসনও। গঙ্গাসাগরগামী প্রতিটি বাসে এবং ভেসেল পয়েন্টে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুশীলা দেবী কিংবা চম্পারাণীদের মতো হাজারো পুণ্যার্থী এখন ক্ষণ গুনছেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন সাগরের মোহনায় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা পুণ্যস্নান সারবেন।





