“কোনও দিন বাম সরকার আসবে”,-হাতুড়ি-কাস্তে-তারার নতুন লড়াইয়ে কি বাজিমাত করবে বামেরা?

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার শিল্পহীনতার ক্ষতকে হাতিয়ার করে অভিনব প্রচারে নেমেছেন রায়গঞ্জ কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী জীবনানন্দ সিংহ। নিজের পুরনো টাটা ন্যানো (Tata Nano) গাড়িটিকে সাজিয়ে তিনি ঘুরছেন পাড়ায় পাড়ায়। প্রার্থীর দাবি, এই ছোট গাড়িটি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং বাংলার ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের প্রতীক।

ন্যানোই কেন প্রচারের হাতিয়ার?
জীবনানন্দ সিংহ ২০১২ সালে এই ন্যানো গাড়িটি কিনেছিলেন। তাঁর মতে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সিঙ্গুরে এই কারখানা গড়তে চেয়েছিলেন বাংলার লক্ষ লক্ষ বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের জন্য। কিন্তু তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শিল্প বিরোধী’ আন্দোলন ও বিজেপির সহযোগিতায় সেই স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়। সেই নস্টালজিয়াকেই ভোটারদের সামনে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন তিনি।

আবেগ ও আগামীর স্বপ্ন:
বামেদের এই প্রার্থী জানান, “টাটা ন্যানোর কারখানাটি ছিল বাংলার বেকারদের আশা। আজ যদি সেই কারখানা থাকত, তবে রাজ্যের চেহারা বদলে যেত। আমি এই গাড়িটির মাধ্যমে মানুষের কাছে সেই আবেগটিই তুলে ধরছি।” তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, আবার কোনওদিন রাজ্যে বামেরা ক্ষমতায় ফিরবে এবং হাতুড়ি-কাস্তের হাত ধরেই গড়ে উঠবে নতুন নতুন কারখানা।

২৫ বছর পর হাতুড়ি-কাস্তে-তারা:
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৫ বছর পর রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের সাথে কোনো জোট না করে সরাসরি নিজেদের ‘হাতুড়ি-কাস্তে-তারা’ প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে সিপিএম। প্রার্থী জীবনানন্দ সিংহের দাবি, জোটের বদলে নিজেদের প্রতীকে লড়ায় পুরনো বাম সমর্থকরা ফের উজ্জীবিত হচ্ছেন এবং লাল পার্টিতেই ভরসা রাখছেন।

শিল্প বনাম উন্নয়নের লড়াই:
নির্বাচনের আগে যখন শাসকদল তৃণমূল এবং বিজেপি একে অপরকে আক্রমণ করছে, তখন বামেদের এই ‘ন্যানো মডেল’ প্রচার ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। জীবনানন্দ সিংহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য শিল্প ফিরিয়ে আনা এবং বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy