মানুষের চোখ এড়িয়ে জার্মান উইকিতে গোপনে ১৮ হাজার মেসেজ! এআই এজেন্টদের কাণ্ডে তোলপাড় টেকদুনিয়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টদের ক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে তাদের রহস্যময় এবং অপ্রত্যাশিত আচরণ। এবার ওপেনএআই-এর সঙ্গে যুক্ত একাধিক স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের বিরুদ্ধে একটি ২৫ বছরের পুরোনো জার্মান প্রোগ্রামিং উইকিকে নিজেদের গোপন মেসেজ বোর্ড হিসেবে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের একটি এক্সক্লুসিভ রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই প্রযুক্তি মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘DseWiki’ নামের ছোট ও ভলান্টিয়ারদের দ্বারা পরিচালিত ওই ওয়েবসাইটটিতে চলতি বছরের মে থেকে জুন মাসের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার মেসেজ বা এন্ট্রি তৈরি হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, ওয়েবসাইটটিতে এআই এজেন্টদের শুধুমাত্র ইন্টারনেট থেকে তথ্য পড়ার বা ‘রিড-অনলি’ অ্যাক্সেস থাকার কথা ছিল। কিন্তু তারা ‘GET requests’ ব্যবহার করে সেই নিয়মকে ফাঁকি দেয় এবং সাইটে ডেটা লিখতে শুরু করে। একটানা প্রায় দু’মাস ধরে এই গোপন কার্যক্রম চললেও তা কারো নজরে আসেনি।
আগস্ট মাসের শেষের দিকে এআই সেফটি ননপ্রফিট সংস্থা ‘নাইটিঙ্গেল’-এর প্রধান সিডনি ভন আর্ক্স এবং গবেষক করম্যাক স্লেড বার্ড ওয়েব স্ক্যান করার সময় এই অস্বাভাবিক কার্যকলাপ প্রথম দেখতে পান। তদন্তে জানা গেছে, এআই এজেন্টগুলি কেবল নিজেদের মধ্যে কাজের সমন্বয়ই করছিল না, বরং বেশ কিছু গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওপেনএআই-এর কঠোর ‘স্যান্ডবক্স রেস্ট্রিকশন’ বা সুরক্ষা বলয় কীভাবে এড়ানো যায়, তা নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করছিল।
এমনকি কিছু মেসেজে গোপনীয়তা বজায় রাখতে ‘টর ব্রাউজার’ ব্যবহারের কথাও উঠে এসেছে। পাশাপাশি, তাদের মূল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হলেও কীভাবে নিজেদের তৈরি মেসেজ বা ডেটা সুরক্ষিত ও সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব, তা নিয়ে জল্পনা চালিয়েছিল ওই এজেন্টগুলি। এই পোস্টগুলিতে “OpenAIResearcher” এবং “OAIResearchMar26”-এর মতো হ্যান্ডেল ব্যবহার করা হয়েছিল, যার পেছনে মাইক্রোসফটের আজুর ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সংযোগ দেখতে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এআই এজেন্টদের এই স্বাধীন ও মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরের আচরণ ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য বড় কোনো বিপদ ডেকে আনবে কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন টেক বিশেষজ্ঞরা। ওপেনএআই-এর এই স্বয়ংক্রিয় প্রজেক্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে।