বাবার হাতেই চরম লাঞ্ছনা! তিন বছরের আইনি লড়াই শেষে ন্যায়বিচার পেলেন তরুণী

রক্তের সম্পর্কের পবিত্রতা যেখানে পিতৃত্বের আশ্রয়ে থাকার কথা, ঠিক সেখানেই এক ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হতে হয়েছিল এক তরুণীকে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিজের মদ্যপ ও নিষ্ঠুর বাবার লালসার শিকার হয়ে যে অন্ধকার গহ্বরে তিনি নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন, সেখান থেকে নিজের লড়াইয়ে আজ তিনি জয়ী। বেঙ্গালুরুর এক বিশেষ আদালতে দোষী সাব্যস্ত বাবা এখন ২০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করছেন।

ঘটনার সূত্রপাত উত্তর বেঙ্গালুরুতে, যেখানে বিহারের বাসিন্দা এক নির্মাণ শ্রমিক সস্ত্রীক ও চার সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পর মেয়েটিকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তার বাবা। এই চাপ থেকে বাঁচতে সে উত্তরপ্রদেশে আত্মীয়দের কাছে আশ্রয় নেয়। ২০২৩ সালের ১২ই জুন নানির শেষকৃত্যে যোগ দিতে পরিবারের সঙ্গে বিহারে যেতে হয় তাকে। সেখানে বাবা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে বিয়ের জন্য আর চাপ দেওয়া হবে না। এই মিথ্যে আশ্বাসের ফাঁদে পা দিয়ে সে বেঙ্গালুরুতে ফিরে আসে।

২০২৩ সালের ২৭শে জুন রাতটি ছিল মেয়েটির জীবনের সবচেয়ে বিভীষিকাময়। মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে বাবা তাকে সন্দেহ করেন যে, উত্তরপ্রদেশে থাকার সময় সে অন্য কোনো সম্পর্কে জড়িয়েছে। এই অদ্ভুত ও জঘন্য সন্দেহের বশবর্তী হয়ে নিজের মেয়ের মর্যাদা লুণ্ঠন করেন তিনি। অভিযুক্ত ব্যক্তি রাতে খাবার আনার নাম করে বাড়ি থেকে বের হলে মেয়েটি সুযোগ বুঝে পালিয়ে প্রাণ বাঁচায়। দীর্ঘ রাত সে পার্কে লুকিয়ে কাটিয়ে পরদিন সকালে একজন অটো চালকের সাহায্যে থানায় পৌঁছায় এবং নিজের বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই লড়াইয়ে তিনি পরিবারের কাউকেই পাশে পাননি। পুলিশ যখন তার মাকে তলব করে, তখন তিনি মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে এই মামলা করার জন্য তাকেই তিরস্কার করেন। মা এবং পরিবার পুরো ঘটনায় তাকে একঘরে করে রাখে। পুলিশের সহায়তায় সে বর্তমানে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র ও পরবর্তীতে নিজের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করেছে।

দীর্ঘ তিন বছর একা লড়াই চালিয়ে অবশেষে ন্যায়বিচার পেয়েছেন ওই তরুণী। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিচার করে অভিযুক্তকে ২০ বছরের কারাদণ্ড ও ১.১০ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে ১৯ বছর বয়সী এই তরুণী দর্জির কাজ করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন, যা তাঁর অদম্য সাহসেরই প্রমাণ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy