বাবার চেয়ে ছেলের বয়স বেশি! মহারাষ্ট্রের ভোটার তালিকায় ভয়ংকর কারচুপি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগল MVA

মহারাষ্ট্রে আসন্ন স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনের আগে নির্বাচনী তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী জোট মহা বিকাশ আঘাড়ি (MVA), মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (MNS) এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দল একযোগে ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী তালিকায় কারচুপি করে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) কংগ্রেস নেতা বালাসাহেব থোরাত নির্বাচনী ত্রুটিগুলি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “রাজ্যের ভোটার তালিকায় শত শত, হাজার হাজার ভুল থেকে যাচ্ছে, যা বহুবার অনুরোধ করেও সংশোধন করা হয়নি। মনে হচ্ছে বিজেপি এবং শাসকগোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবেই স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা চায় না, কারণ তা তাদের স্বার্থের পরিপন্থী।” থোরাত অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্র সরকার এই ত্রুটিগুলিকে উপেক্ষা করছে, যা “ইচ্ছাকৃত অবহেলা”।

নির্বাচন কমিশনে শীর্ষ নেতাদের ডেপুটেশন
এই ইস্যুতে বিরোধী শিবিরের ‘ভোট চুরি’ প্রচার অভিযান নতুন গতি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিরোধী প্রতিনিধিদল রাজ্য নির্বাচন কমিশনার দিনেশ ওয়াঘমারে ও মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এস. চোকালিংম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাৎক্ষণিক সংশোধন ও ভোটার তালিকার স্বচ্ছ প্রকাশের দাবি জানাবে।

বিরোধী প্রতিনিধিদলে থাকবেন শরদ পাওয়ার, উদ্ধব ঠাকরে, রাজ ঠাকরে, বালাসাহেব থোরাত ও বর্ষা গাইকওয়াদের মতো শীর্ষ নেতারা।

স্মারকলিপিতে ‘ভয়ঙ্কর’ অভিযোগ
বিরোধীদের জমা করা স্মারকলিপিতে নির্বাচনী তালিকায় বিপুল পরিমাণ ভুল থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দ্বৈত নাম, অস্তিত্ববিহীন ভোটার, অনুপস্থিত পরিবার, এবং সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, “ছেলের বয়স বাবার চেয়ে বড় করে দেখানো হয়েছে।”

এমএনএস নেতা বালা নানদগাঁওকর জানান, মঙ্গলবারের বৈঠকে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা “অসন্তোষজনক” হয়েছে। তাই তারা আরেকটি বৈঠকের দাবি জানিয়েছেন, যেখানে এই অনিয়ম নিয়ে স্পষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা হবে।

প্রধান দাবি: VVPAT স্বচ্ছতা ও বিহারের মতো ‘SIR’
বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, কেন মহারাষ্ট্রে বিহারের মতো ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR)’ বা বিশেষ তালিকা পুনর্বিবেচনা অভিযান চালানো হচ্ছে না। স্মারকলিপিতে সরাসরি এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

অন্য একটি বড় দাবি হলো, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে VVPAT (ভোটার ভেরিফাইয়েবল পেপার অডিট ট্রেইল) ব্যবস্থার পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অথবা বিকল্প হিসেবে হাতে লেখা ব্যালট পেপারে ভোটের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। এক সিনিয়র বিরোধী নেতা বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া চাই, যেখানে ভোট ইলেকট্রনিকভাবে কারচুপি করা না যায়।”

বিরোধী শিবিরের আশঙ্কা, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে কারচুপির যে কৌশল তারা দাবি করছে, তেমনই কৌশল আসন্ন পৌরসভা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্যবহার হতে পারে। এমনকি, স্বাধীন সংস্থা কমনওয়েলথ হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভ (CHRI)-এর তদন্তেও নালাসোপারা কেন্দ্রে এক ভোটারের নাম ছয়বার তালিকাভুক্ত হওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।

বিরোধীরা সতর্ক করে দিয়েছে, প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না এলে মহারাষ্ট্রে “ভোট চুরি ২.০”-এর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাদের বক্তব্য, স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনই ২০২৯ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের রাজনৈতিক সুর নির্ধারণ করবে — আর তাই “ভোট চুরি রুখে গণতন্ত্র বাঁচাও” এখন তাদের প্রধান স্লোগান।