কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের পেশ করা ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে বড়সড় চমক পেল স্বাস্থ্যক্ষেত্র। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে একগুচ্ছ ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন তিনি। বিশেষ করে ক্যানসার ও বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ৩৬টি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কোটি কোটি ভারতবাসীর জন্য এক বিশাল স্বস্তি হয়ে এসেছে।
অ্যাপোলো হাসপাতালের চেয়ারম্যান তথা ভারতের আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবার পথিকৃৎ ডা. প্রতাপ সি রেড্ডি এই বাজেটকে ‘সুস্থ নাগরিক, বিকশিত ভারত’ গড়ার আসল চাবিকাঠি বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এই বাজেট কেবল অর্থ বরাদ্দ নয়, বরং ভারতকে বিশ্বের ‘হেলথ হাব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার একটি ব্লু-প্রিন্ট।
‘বায়োফার্মা শক্তি’ ও গবেষণায় বিপ্লব: বাজেটে লাইফ সায়েন্সের উন্নতির জন্য ১০,০০০ কোটি টাকার ‘বায়োফার্মা শক্তি’ প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। এর অধীনে দেশজুড়ে ১০০০টি নতুন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সেন্টার তৈরি হবে। ফলে জটিল রোগের ওষুধের গবেষণার জন্য আর বিদেশের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। ভারতেই তৈরি হবে বিশ্বমানের বায়োলজিক্স ও বায়োসিমিলার ওষুধ।
চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন সূর্যোদয়: দেশের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য সুখবর! এবারের বাজেটে মেডিক্যাল কলেজের আসন সংখ্যা ১০ হাজার বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ১.৫ লক্ষ দক্ষ ‘কেয়ারগিভার’ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের জোয়ার আনবে।
মানসিক স্বাস্থ্য ও জেলা হাসপাতালের ভোলবদল: মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বুঝে রাঁচি ও তেজপুরের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি উত্তর ভারতে ‘নিমহ্যান্স-২’ (NIMHANS-2) গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হলো জেলা হাসপাতালগুলির মানোন্নয়ন। জেলাস্তরে জরুরি ও ট্রমা চিকিৎসার ক্ষমতা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। ফলে মফস্বল বা গ্রামীণ এলাকার মানুষকে আর গুরুতর পরিস্থিতিতে বড় শহরের দিকে ছুটতে হবে না। এছাড়া, পাঁচটি নতুন ‘মেডিক্যাল ট্যুরিজম হাব’ বিদেশের রোগীদের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে।
সব মিলিয়ে, নির্মলা সীতারামনের এবারের লাল ফোল্ডার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে বিলাসিতা থেকে বের করে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছে।