‘বাচ্চা নিলে চাকরি থাকবে না’, গর্ভপাত করেও রক্ষা পেলেন না! অমানবিক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে চরম অভিযোগ তরুণীর

কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত পরিবেশ এবং অমানবিক আচরণের অভিযোগ নতুন নয়, তবে সম্প্রতি এক মহিলার মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতা নেটপাড়ায় নতুন করে শোরগোল ফেলেছে। জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেডিটে তিনি নিজের জীবনের এক নারকীয় অধ্যায় তুলে ধরেছেন, যেখানে তাঁর ম্যানেজার চরম অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

বছর ত্রিশের ওই মহিলা জানিয়েছেন, আগেরবার গর্ভপাতের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি তাঁর ৪০ বছর বয়সী ম্যানেজারকে দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানাননি। কারণ, ম্যানেজার তাঁকে আগেই বলেছিলেন, “বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করো না, তুমি খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী।” এমনকি, অন্যদের কাছেও তিনি বলতেন যে, ওই মহিলা নাকি বাচ্চা নেওয়ার জন্য পাগল।

এরপরই আসে তাঁর জীবনের অন্ধকারতম সময়। দ্বিতীয়বারের গর্ভপাতের পাশাপাশি তিনি কোভিড আক্রান্তও হন। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে তীব্র জ্বর, গর্ভপাতের যন্ত্রণা এবং কোভিডের জটিলতা নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। কিন্তু এই চরম সংকটের মুহূর্তেও তাঁর ম্যানেজার সামান্য সহানুভূতি দেখাননি। উল্টো, তাঁকে ক্রমাগত হেনস্থা করতে থাকেন এবং হাসপাতালের ডিসচার্জ সামারি চেয়ে চাপ দিতে থাকেন। হুমকি দিয়ে বলেন, এইচআর-এর সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকায় তিনি সব জেনে তবেই ছাড়বেন।

মহিলার অভিযোগ, তিনি এই বিষয়টি কোম্পানির এক মহিলা সিওও-কে জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি। উল্টে, তিনিও কোনো সাহায্য করেননি। শেষ পর্যন্ত, চাকরিটি ছেড়ে দেন ওই মহিলা। বর্তমানে তিনি একটি ১৮ মাস বয়সী ফুটফুটে সন্তানের মা।

মহিলার এই পোস্টের পর বহু মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই কর্মক্ষেত্রে ম্যানেজারদের এই ধরনের ‘দাসমালিক’ সুলভ আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “অধিকাংশ ভারতীয় ম্যানেজারের সহানুভূতির অভাব রয়েছে, তাঁরা কর্মীদের বিশ্বাস করেন না এবং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে কোনো ভারসাম্য রাখেন না।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “আমরা ভাবি মহিলারা মহিলাদের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু দিনের শেষে টাকাপয়সা আর ক্ষমতাই সব। সিনেমার বা নাটকের মতো বাস্তবে হয় না।”

এই ঘটনা আবারও কর্মক্ষেত্রে মানবিকতা এবং সহমর্মিতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন, এ ধরনের ব্যবস্থাপকদের কঠোর জবাবদিহি করা উচিত।