‘বাঙালির রক্তে ব্যবসা’! কেন ফের বাণিজ্যে ফিরতে হবে বাংলাকে? বার্তা মোদির উপদেষ্টার

“বাঙালি ব্যবসা করতে পারে না বা করতে চায় না”—এই অপবাদকে ভুল প্রমাণ করে আবারও বিশ্বমঞ্চে বাংলার বাণিজ্যিক গৌরব ফেরানোর ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল। শুক্রবার কলকাতায় আয়োজিত ‘দ্য ডন অফ বিকশিত বেঙ্গল’ (The Dawn of Vikshit Bengal) শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্প ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক নতুন দিশা দেখালেন তিনি।

ঐতিহ্যের পথেই ভবিষ্যৎ মুখ্যমন্ত্রীর ‘বিকাশ এবং বিরাসত’ (ঐতিহ্য ও উন্নয়ন) মন্ত্রকে সামনে রেখে সঞ্জীব সান্যাল জানান, প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবসা ও বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলা। তিনি বলেন, “হাজার বছর ধরে এই ভূখণ্ড বাণিজ্যের সংস্কৃতি লালন করেছে। আর্মেনিয়া থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ব্যবসার টানে বাংলায় এসেছিলেন। বাঙালির রক্তে ব্যবসা মিশে আছে, গত ৫০ বছরে পরিস্থিতির চাপে হয়তো সেই ধারা কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল, কিন্তু এখন সময় এসেছে ফের সেই পুরনো ঐতিহ্যে ফেরার।”

সিঙ্গুর-পরবর্তী বাংলার নতুন ভাবমূর্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাংলার শিল্প সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি স্পষ্টতই জানান, অতীতে সিঙ্গুরের মতো ঘটনা রাজ্যের শিল্প-ভাবমূর্তিকে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। এখন সরকার সেই কালি মুছে ফেলে বিনিয়োগকারীদের নতুন করে আশ্বস্ত করতে চায়। অর্থমন্ত্রীর কথায়, “রাজ্যের শিল্পে জোয়ার আনা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে দ্রুততর করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

তারকাখচিত মঞ্চ বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স এবং দিল্লি কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সঞ্জীব সান্যাল ও স্বপন দাশগুপ্ত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বিশ্বমানের ব্যবসায়িক হাব গড়ে তোলা যায়, তা নিয়েই এদিন বিস্তারিত আলোচনা করেন অর্থনীতিবিদরা।

বাঙালি কি পারবে বাণিজ্যে ফিরতে? সঞ্জীব সান্যালের দাবি, ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করলে বাঙালি যে ফের শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে পারে, তার ইতিহাস রয়েছে। তাঁর এই ইতিবাচক বার্তা কি বাংলার শিল্প-মানচিত্রে সত্যিই নতুন ভোরের সূচনা করবে? শিল্পমহলের এখন সেই প্রশ্নের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য।