বাংলার সম্মানের প্রশ্নে বিধানসভায় রণক্ষেত্র, বিজেপি-কে ‘দেশের দালাল’ বললেন মমতা,

বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বাংলা ভাষা ও বাঙালির উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবের উপর আলোচনা চলাকালীন উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, স্লোগান, ধস্তাধস্তি এবং পাঁচ বিজেপি বিধায়ককে সাসপেন্ড করার মধ্য দিয়ে দিনভর চরম বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থাকল রাজ্য বিধানসভা।

‘তোমরা দেশের দালাল’ – মমতা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে বিজেপিকে ‘দেশের দালাল’ বলে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশি শক্তির কাছে দেশের সম্মান বিকিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “তারা কখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দরজায়, কখনও চিনের দরজায় হাত পাতছে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি অভিবাসীদের উপর আক্রমণের ঘটনাগুলো ধামাচাপা দিতেই বিরোধীরা বিধানসভায় বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কোনও ভাষার বিরোধী নই, কিন্তু বিজেপির আচরণ স্পষ্টতই ‘অ্যান্টি-বেঙ্গলি’।”

ওয়েলে স্লোগান, সাসপেনশন ও ধস্তাধস্তি

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুরু হতেই বিজেপি বিধায়করা ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা স্লোগানে জবাব দেয় শাসকদলও। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অনুরোধ করেও পরিস্থিতি শান্ত করতে পারেননি। উত্তেজনা বাড়লে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে প্রথমে শংকর ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পালকে সাসপেন্ড করা হয়। এরপর মিহির গোস্বামী, অশোক দিন্দা ও বঙ্কিম ঘোষকেও দিনের জন্য সাসপেন্ড ঘোষণা করেন স্পিকার।

সাসপেন্ড হওয়া বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় মার্শালদের সঙ্গে তাঁর তুমুল ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে প্রায় টেনে-হিঁচড়ে কক্ষের বাইরে বের করা হয়। এই উত্তেজনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে ওয়েলে নেমে দলীয় বিধায়কদের শান্ত থাকতে এবং আসনে ফিরে প্রতিবাদ জানাতে নির্দেশ দেন।

‘তোমরা জিরো হয়ে যাবে’ – মমতার হুঁশিয়ারি

বক্তব্যের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “একতরফা স্লোগান দিলে জনগণ ধাক্কা দিয়ে বিধানসভায় আপনাদের জিরো করে দেবে।” তিনি বলেন, বিজেপি ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি করে, যা বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এনআরসি-র মতো পদক্ষেপ বাংলায় ‘কখনও হতে দেওয়া হবে না’।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি অভিযোগ করেছে, সরকার তাদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে এবং স্পিকারের আচরণ পক্ষপাতদুষ্ট। তবে তৃণমূলের দাবি, বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনার বিষয়টিকে বানচাল করার চেষ্টা করেছে। সারাদিনের এই ঘটনায় স্পষ্ট, বিধানসভার পবিত্র মঞ্চ এখন রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।