বাংলার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ‘বিগ ব্রেক’! ২০১৭ ও ২০২২ টেটে ভুল প্রশ্নে নম্বর দেওয়ার নির্দেশ, পর্ষদকে সোমবার নতুন পদ্ধতি জানাতে নির্দেশ হাইকোর্টের

২০১৭ এবং ২০২২ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের টেট (TET) পরীক্ষায় প্রশ্ন ভুল সংক্রান্ত মামলার জল এবার গড়াল চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে এদিন সেই মামলার বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট জমা পড়েছে। রিপোর্টটি খতিয়ে দেখে আদালত জানিয়েছে, যে পরীক্ষার্থীরা এই বিতর্কিত ৪৭টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককেই নম্বর দেওয়া হবে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে হাজার হাজার টেট প্রার্থীর ভাগ্য বদলাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE) কোন পদ্ধতি অবলম্বন করবে, তা আগামী সোমবারের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি বসু। সোমবারই এই মামলায় চূড়ান্ত নির্দেশ দেবেন তিনি।

কেন এত প্রশ্ন ভুল নিয়ে মামলা?
২০১৭ এবং ২০২২ সালের টেট পরীক্ষায় একাধিক প্রশ্ন ভুল ছিল বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

২০১৭ সালের টেটে: অভিযোগ ওঠে ২৩টি প্রশ্ন ভুল ছিল। প্রথমে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়কে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

২০২২ সালের টেটে: ২৪টি প্রশ্ন ভুলের অভিযোগ ওঠে। এই মামলায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রশ্ন খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন বিচারপতি মান্থা।

কিন্তু পর্ষদ সেই দুই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গেলে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ একটি তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। কলকাতা, যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সেই কমিটির রিপোর্ট এদিন বিচারপতি বসুর এজলাসে পেশ করা হয়েছে।

কী বলছেন আইনজীবীরা?
মামলার অন্যতম আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান,

“আমরা আশা করছি, এই রিপোর্টের ভিত্তিতে অনেক প্রার্থী নম্বর পাবেন এবং তাঁরা পরীক্ষায় পাশ করবেন। বিশেষজ্ঞ কমিটি যে রিপোর্ট পেশ করেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে সকলেই নম্বর পাবেন। তবে কতগুলো প্রশ্নের জন্য নম্বর দেওয়া হবে এবং পর্ষদ কী পদ্ধতি মেনে এই নম্বর দেবে, সে বিষয়ে বিচারপতি সোমবার বিস্তারিত নির্দেশ দেবেন।”

উল্লেখ্য, এই দুই সালের বহু টেট উত্তীর্ণ না হওয়া প্রার্থী প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আইনজীবীরা মনে করছেন, সোমবার হাইকোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশ চলে এলে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার পথে থাকা একটি বড় সমস্যার সমাধান হবে।