২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। এই আবহে তৃণমূল নেত্রীকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী তরুণজ্যোতি তেওয়ারি। মমতার এই অনড় অবস্থানকে ‘নির্লজ্জতার চূড়ান্ত সীমা’ বলে অভিহিত করে তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে এক বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়ায় তরুণজ্যোতি প্রশ্ন তোলেন, পুরো রাজ্য প্রত্যাখ্যান করার পরেও কোন সাহসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও কুর্সি আঁকড়ে বসে আছেন?
নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট হতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয় মেনে না নেওয়ার যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাকে কেন্দ্র করেই সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। সেই বিতর্ককে উসকে দিয়ে তরুণজ্যোতি তেওয়ারি সরাসরি মমতাকে ‘বাংলার এক নম্বর নির্লজ্জ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তরুণজ্যোতির কড়া আক্রমণ: সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তরুণজ্যোতি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আপনাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আপনি নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, আপনার দল রাজ্যজুড়ে ধরাশায়ী হয়েছে। তারপরেও আপনি বলছেন ইস্তফা দেবেন না? এটা গণতন্ত্রের ইতিহাসে নির্লজ্জতার সবথেকে বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমাণ করছেন যে ক্ষমতার লোভে তিনি সাংবিধানিক রীতিনীতিকেও জলাঞ্জলি দিতে পারেন।”
প্রত্যাখ্যানের রাজনীতি: তরুণজ্যোতির দাবি, তৃণমূলের অপশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধেই মানুষ এবার জনমত প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, “বারবার হেরে যাওয়ার পরেও যিনি নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী বলে দাবি করেন, তাঁর লজ্জা থাকা উচিত। গোটা রাজ্য যখন পরিবর্তনের উৎসবে মেতেছে, তখন তিনি কোন মুখে নবান্নে থাকার কথা ভাবছেন? আসলে তিনি হার মেনে নিতে ভয় পাচ্ছেন।”
সাংবিধানিক সংকটের হুঁশিয়ারি: বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি স্বেচ্ছায় সরে না দাঁড়ান, তবে রাজ্যপাল এবং আদালতের হস্তক্ষেপে তাঁকে সরাতে বাধ্য করা হবে। তরুণজ্যোতি তেওয়ারি সেই দিকে ইঙ্গিত করেই বলেছেন যে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। মানুষের রায়ের অপমান করলে তার ফল যে ভালো হবে না, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।
বাংলার এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণজ্যোতির এই ‘নির্লজ্জ’ কটাক্ষ যে ঘি ঢালার কাজ করল, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের পালটা কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও না মিললেও, বিরোধী শিবিরের এই আক্রমণ ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।





