বর্ধমান দক্ষিণে ঈদের আমেজেই ভোটের হাওয়া! ৪ শতাংশের টক্করে মুসলিম ভোট কি এবার বিজেপির কাঁটা?

উৎসবের মরসুমেও বিরাম নেই রাজনীতির ময়দানে। একদিকে যখন খুশির ইদ ঘিরে খুশির হাওয়া চারদিকে, ঠিক তখনই বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে ইদকে কেন্দ্র করেই চলছে ভোটের কঠিন পাটিগণিত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বলছে, এখানে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে লড়াই ছিল আক্ষরিক অর্থেই ‘কাঁটায় কাঁটায়’। তৃণমূল পেয়েছিল ৪৪.৩২ শতাংশ ভোট, আর বিজেপি পেয়েছিল ৪০.৩৮ শতাংশ। মাত্র ৩.৯৪ শতাংশের এই সামান্য ব্যবধানই এখন ২০২৬-এর লড়াইয়ে ঘুম উড়িয়েছে দুই শিবিরের।
সংখ্যালঘু ভোট ও জয়-পরাজয়ের সমীকরণ: বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভূমিকা অত্যন্ত নির্ণায়ক। তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই ভোটব্যাংকে এবার থাবা বসাতে মরিয়া বিজেপি। গত নির্বাচনে ৪ শতাংশেরও কম ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া বিজেপি এবার নিজেদের রণকৌশল বদলেছে। ইদের উৎসবে শামিল হয়ে সংখ্যালঘু ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, নিজেদের ভোটব্যাংক অটুট রাখতে এবং উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে দুর্গ আগলাতে ব্যস্ত ঘাসফুল শিবির।
কেন এই লড়াই এত গুরুত্বপূর্ণ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্ধমান দক্ষিণে গতবার তৃণমূল ৪৪.৩২ শতাংশ ভোট পেলেও বিজেপির ৪০.৩৮ শতাংশ ভোট পাওয়াটা ছিল বড় চমক। এই ব্যবধান এতটাই কম যে, সামান্য কয়েক হাজার সংখ্যালঘু ভোট এদিক-ওদিক হলেই বদলে যেতে পারে ফলাফল। তাই ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় থেকে শুরু করে জনসংযোগ—সবক্ষেত্রেই ‘সফট পাওয়ার’ ব্যবহার করছে দুই পক্ষই। শাসক দল যেখানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরছে, বিজেপি সেখানে কর্মসংস্থান ও পরিবর্তনের ডাক দিয়ে সংখ্যালঘু তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে চাইছে।