বন্দুকের নলের সামনে ১৯ জন বন্দি! কাফন সিনেমা তৈরির আড়ালে কি চলছিল ভয়ঙ্কর ছক?

মুম্বইয়ের পওয়াইয়ের একটি স্টুডিওতে ১৭ শিশু-সহ মোট ১৯ জনকে পণবন্দি করার ঘটনায় যে রহস্যের জাল তৈরি হয়েছিল, তা ক্রমশ জটিল হচ্ছে। অভিনেতা গিরিশ ওক (Girish Oak) এবং রুচিতা যাদবের (Ruchita Jadhav) মতো পরিচিত মারাঠা তারকাদের সঙ্গে মূল অভিযুক্ত রোহিত আর্যর (Rohit Arya) যোগাযোগের কথা সামনে আসতেই চাঞ্চল্য আরও বেড়েছে। জানা গেছে, ‘অপহরণ’ নিয়ে সিনেমা তৈরির আড়ালেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন রোহিত।

🎬 ঘটনার ঠিক আগের দিনের চিত্র

প্রবীণ মারাঠা অভিনেতা গিরিশ ওক হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পণবন্দি করার ঘটনার ঠিক আগের দিন তিনি রোহিত আর্যর আরএ স্টুডিওতে গিয়েছিলেন। সেখানে ঢুকেই তিনি চমকে গিয়েছিলেন।

গিরিশ ওক বলেন:

“কয়েকদিন আগে এক পুরনো সহকর্মী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁর কাছ থেকেই জানতে পারি রোহিত আর্য ‘অপহরণ’ নিয়ে একটি সিনেমা বানাতে চলেছেন। রোহিত আগেও কিছু ছবি প্রযোজনা করেছেন, তাই সন্দেহ হয়নি। সকাল ১১টা নাগাদ স্টুডিওতে পৌঁছই। তখন দেখেছিলাম অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সেখানে রয়েছে। জিজ্ঞেস করলে রোহিত জানান, একটি ওয়ার্কশপ চলছে। সবাই মিলে একসঙ্গে ছবিও তুলি। দুপুর ১২টা নাগাদ আমি চলে আসি।”

অভিনেতা জানিয়েছেন, সেই কথা মনে পড়লে আজও তিনি শিউরে ওঠেন। এই ঘটনাটি যে পরিকল্পিত ছিল, এমনটাই মনে করছেন গিরিশ ওক।

 

💔 ভাগ্যক্রমে বাঁচলেন অভিনেত্রী রুচিতা

 

শুধু গিরিশ নয়, অভিনেত্রী রুচিতা যাদবের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন রোহিত। কাকতালীয়ভাবে সেই ছবিরও বিষয়বস্তু ছিল ‘অপহৃতদের পরিস্থিতি’।

রুচিতা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, রোহিত আর্য নামে একজন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। ছবিটি তাঁর অভিনেত্রী হিসেবে বেশ ভালো লাগে। স্টুডিওর ঠিকানা পাঠালেও, পারিবারিক কারণে রুচিতা সেই সাক্ষাৎ বাতিল করেছিলেন। ভাগ্যক্রমে তিনি সেদিন রোহিতের মুখোমুখি হওয়া থেকে বেঁচে যান।

 

💰 ২ কোটি টাকার জন্যই কি এই কাণ্ড?

 

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহারাষ্ট্র সরকারের ‘স্বচ্ছতা মনিটর’ নামে একটি প্রকল্প শুরু করেছিল রোহিতের সংস্থা। তার জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও রোহিতের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় টাকা আটকে দেওয়া হয়। মনে করা হচ্ছে, এর জেরেই রাগে ছোট ছোট শিশুদের পণবন্দি করেন তিনি।

  • দাবি: ৩৫ মিনিটের অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে উদ্ধার করে কুইক রেসপন্স টিম। গুলি করে মারা হয় রোহিতকে। পুলিশ পরে জানায়, ২.৪২ কোটি টাকার জন্যই এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি।
  • বিপরীত বক্তব্য: রোহিতের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি আর্য সাংবাদিকদের জানান, ২ কোটি টাকা এবং নিজের কাজের স্বীকৃতি, দুইয়ের জন্যই তাঁর স্বামী লড়াই চালাচ্ছিলেন। যদিও শিশুদের পণবন্দি করার পরে রোহিত যে ভিডিয়ো প্রকাশ করেছিলেন, তাতে তিনি কোনো টাকা চাননি। বলেছিলেন, “আমি জঙ্গি নই। টাকার চাহিদাও নেই।”

এই ঘটনায় পুরো টেলিকম ইন্ডাস্ট্রিতেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy