৩১ মার্চের মধ্যে মেটাতে হবে বকেয়া! সুপ্রিম রায়ে মুখ পুড়ল রাজ্যের? ধর্মতলায় শুরু বিজয় উৎসব!

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়েই বদলে গেল ধর্মতলার শহিদ মিনার চত্বরের চেনা ছবিটা। বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীদের জয়ধ্বনি আর লাড্ডু বিলির দৃশ্যে আজ মেতে উঠল অবস্থানমঞ্চ। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ২০০৮ সালের আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে।
আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। তবে আনন্দের মাঝেই রয়ে গিয়েছে আন্দোলনের সুর। সিপিএম সমর্থিত কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী স্পষ্ট জানান, “এটি লড়াইয়ের একটি ধাপ মাত্র। কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র মধ্যে এখনও যে ৪০ শতাংশ ব্যবধান রয়েছে, তা আমাদের ন্যায্য পাওনা। সেই অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।” একই সুর শোনা গেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের গলায়। তিনি আশঙ্কাপ্রকাশ করে বলেন, “আগেও ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ ছিল কিন্তু সরকার তা করেনি। এবার রাস্তায় থেকে সরকারকে বাধ্য করব এই নির্দেশ পালন করতে।”
এদিকে এই রায়কে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেছিলেন ডিএ নাকি অনুগ্রহ, আজ সুপ্রিম কোর্ট প্রমাণ করে দিল এটা সরকারি কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ অধিকার। প্রাপ্য টাকা না দিয়ে আইনি লড়াইয়ে জনগণের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করল এই সরকার।” অন্যদিকে, বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতিও এই রায়কে ঐতিহাসিক জয় হিসেবে বর্ণনা করেছে।
পাল্টা সুর চড়িয়েছে তৃণমূল সমর্থিত সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। সংগঠনের নেতা প্রতাপ নায়েক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী কোনোদিন ডিএ দেবেন না বলেননি, পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেন। আদালতের নির্দেশ রাজ্য সরকার যেভাবে পালন করবে, আমরা তার পাশেই আছি।” সব মিলিয়ে, ৩১ মার্চের সময়সীমা এখন নবান্নের ওপর পাহাড়প্রমাণ চাপ সৃষ্টি করল, যা ডিএ আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা দিল।