পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় জয়ের পর থেকেই শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসছেন হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাটি এল সীমান্ত পেরিয়ে ওপার বাংলা থেকে। বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের এই সন্ধিক্ষণে শুভেন্দুকে অভিনন্দন জানালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ঢাকা থেকে এল বিশেষ বার্তা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর এই বিশাল সাফল্যের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। সূত্রের খবর, বার্তায় শেখ হাসিনা লিখেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ম্যান্ডেট শুভেন্দু অধিকারীর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও তাঁর প্রতি জনগণের আস্থারই প্রতিফলন। প্রতিবেশি রাজ্যের নতুন নেতার প্রতি তাঁর এই সৌজন্য বিনিময় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
তিস্তা না কি মৈত্রী— কী নিয়ে হলো আলোচনা? যদিও এই বার্তাটি মূলত একটি সৌজন্যমূলক শুভেচ্ছা বিনিময়, তবুও রাজনৈতিক মহলে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা জলবণ্টন চুক্তির জট কাটাতে কি নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঢাকা নতুন উদ্যমে কাজ করবে? সেই জল্পনা এখন তুঙ্গে। শেখ হাসিনা তাঁর বার্তায় আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী দিনে দুই বাংলার মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
শুভেন্দুর রাজনৈতিক ওজন টানা দু’বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উচ্চতা এখন গগনচুম্বী। বিদেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছ থেকে সরাসরি এই অভিনন্দন সেই গুরুত্বকেই আরও সিলমোহর দিল। বিজেপি শিবিরেও শেখ হাসিনার এই বার্তাকে বেশ ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তাঁদের মতে, কেন্দ্রে মোদী সরকার এবং রাজ্যে শুভেন্দু সরকার থাকলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
শপথের আগেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আগামীকালই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার আগেই শেখ হাসিনার এই বার্তা তাঁর নেতৃত্বের প্রতি এক ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, শপথ নেওয়ার পর প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে নয়া মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কী অবস্থান নেন। তবে শেখ হাসিনার এই আন্তরিক শুভেচ্ছাবার্তা যে দুই বাংলার সম্পর্কের বরফ গলাতে সাহায্য করবে, তা বলাই বাহুল্য।





