বঙ্কিম-স্মরণে নবান্ন ও দিল্লির মেলবন্ধন! প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৯-তম জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা ও রাজনীতির এক অনন্য মেলবন্ধন লক্ষ্য করা গেল। একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর সাহিত্যিক অবদানের কথা স্মরণ করে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেছেন, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার দিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি উপহার দেন, যা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে বঙ্কিমচন্দ্রকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখেন, “এক সুবিশাল সাহিত্যিক আলোকবর্তিকা হিসেবে, বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা প্রজন্মান্তরের ভারতীয়দের মধ্যে দেশপ্রেম এবং সাংস্কৃতিক গৌরবের চেতনা জাগ্রত করেছে। তাঁর সমৃদ্ধ সাহিত্যকর্ম মনকে উদ্ভাসিত করে চলেছে এবং জাতি গঠনের প্রতি আমাদের সংকল্পকে শক্তিশালী করছে।” প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দেন ‘বন্দে মাতরম’ গানটির ওপর, যা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে দীর্ঘস্থায়ী অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। উল্লেখ্য, এবার বন্দে মাতরম-এর ১৫০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, শুক্রবার সাহিত্য সম্রাটের জন্মজয়ন্তীতে কলেজ স্ট্রিটের ঐতিহাসিক বাসভবনে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই দিল্লি সফর করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সেবার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই আমার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। তাঁর উষ্ণ শুভেচ্ছা এবং রাজ্যের অগ্রগতির প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনার মূল বিষয় ছিল পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতির ওপর জোর দিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প পুনরুজ্জীবন এবং যুব ক্ষমতায়নের পথে রাজ্যকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভাব্য সবরকম সাহায্য করবে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বাংলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেশ আশাবাদী। বঙ্কিমচন্দ্রের আদর্শকে সামনে রেখে রাজ্যের উন্নয়নে মোদি-শুভেন্দু এই যুগলবন্দী আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।