বকেয়া ডিএ পেমেন্টে সুপ্রিম কোর্টের বিরাট কড়াকড়ি! ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টাকা মেটানোর নির্দেশ, কাদের ভাগ্য খুলল?

সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহারঘ ভাতা বা ডিএ (DA) প্রদান সংক্রান্ত মামলায় এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট গঠিত বিশেষ মনিটরিং কমিটি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রায় সাড়ে চৌষট্টি হাজার কর্মীর ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ই-সার্ভিস বুকের তথ্য ইতিমধ্যে সফলভাবে স্ক্যান ও আপলোড করা হয়ে গেছে, এমন প্রায় ৬৫ হাজার কর্মীর জন্য এই নির্দিষ্ট সময়সীমা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক প্রমাণিত হতে চলেছে।

দীর্ঘ মেয়াদী এই বকেয়া ডিএ হিসাব করতে গিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সামনে অতীতে একাধিক প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ের বহু কর্মীর মূল বেতন, পদোন্নতি ও চাকরি সংক্রান্ত পুরনো নথিপত্র ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত না থাকায় সঠিক প্রাপ্য নির্ধারণ করা দুরূহ হয়ে পড়েছিল। এই সমস্যা চিরতরে দূর করতে বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কর্মীদের ই-সার্ভিস বুক আপডেট করার বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। রাজ্য সরকারের মনিটরিং কমিটিকে দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ৬৪,৭৫৮ জন কর্মীর সার্ভিস বুক স্ক্যান করে সিস্টেমে আপলোড করা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি আরও প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯১ জন কর্মীর সার্ভিস বুক আপডেট করার কাজ সমানভাবে এগিয়ে চলেছে।

প্রথম ধাপে যাঁদের চাকরি ও বেতনের সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য ডিজিটাল ডেটাবেজে সফলভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে, প্রশাসনের হাতে তাঁদের বকেয়া হিসাব করার মতো প্রয়োজনীয় এবং নির্ভুল নথি এখন প্রস্তুত রয়েছে। সেই কারণেই মনিটরিং কমিটি আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের সময়সীমাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, যাঁদের ই-সার্ভিস বুক ইতিমধ্যে আপডেট করা সম্পন্ন হয়েছে, সেই ৬৪,৭৫৯ জন কর্মীর ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তির টাকা নির্ধারিত ওই ডেডলাইনের ভেতরেই সরাসরি পরিশোধ করতে হবে।

এই ঘোষণার পর থেকেই লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীর মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। কর্মীরা নিজেদের সম্ভাব্য বকেয়া ডিএ-র অঙ্ক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে অনলাইনে উপলব্ধ ডিএ ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। এই বিশেষ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করার জন্য কর্মচারীদের নির্দিষ্ট সময়ের মূল বেতন (Basic Pay) এবং প্রাপ্ত ও প্রাপ্য ডিএ-র হারের পার্থক্য ইনপুট করতে হয়। সূত্রটি হলো— (মূল বেতন × ডিএ পার্থক্যের হার %) ÷ ১০০, যার মাধ্যমে মাসিক বকেয়ার একটি আনুমানিক পরিমাণ সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনলাইন ক্যালকুলেটরের ফলাফল সম্পূর্ণভাবে একটি হিসাবভিত্তিক আনুমানিক ফল মাত্র। চূড়ান্ত এবং সর্বসম্মত প্রাপ্য অর্থ নির্ধারিত হবে একমাত্র সরকারি সার্ভিস বুক, প্রকৃত বেতন সংক্রান্ত নিখুঁত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কোষাগারের সুনির্দিষ্ট হিসাবের ভিত্তিতেই। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পেমেন্ট অর্ডার নয়, বরং আইনি ও প্রশাসনিক নথিপত্রই চূড়ান্ত পাওনার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে। ৩ সেপ্টেম্বরের এই সময়সীমা পার হওয়ার পর বকয়া মেটানোর প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত গতি পায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন রাজ্যজুড়ে আন্দোলনরত ও প্রতীক্ষমান কর্মীরা।