মূল্যস্ফীতি বা সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ে বড়সড় সতর্কবার্তা দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) সাম্প্রতিক বৈঠকের পর RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, এ বছর গড় মূল্যস্ফীতি ৪.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫.১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির বাড়বাড়ন্ত:
RBI-এর দেওয়া নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে জিনিসের দাম বাড়ার প্রবণতা স্পষ্ট। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পূর্বাভাসের পরিবর্তনের চিত্রটি নিম্নরূপ:
| ত্রৈমাসিক (FY27) | পূর্বের পূর্বাভাস | নতুন পূর্বাভাস |
| প্রথম (Q1) | ৪.০% | ৪.২% |
| দ্বিতীয় (Q2) | ৪.৪% | ৫.১% |
| তৃতীয় (Q3) | ৫.২% | ৫.৯% |
| চতুর্থ (Q4) | ৪.৭% | ৫.৪% |
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (Q3) মূল্যস্ফীতি RBI-এর সহনশীলতার সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।
কেন বাড়ছে দুশ্চিন্তা?
RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, খুচরো মূল্যস্ফীতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সামনে একাধিক ‘ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকি’ রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
মৌসুমি বৃষ্টি ও এল নিনো: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অনিশ্চয়তা এবং এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যের দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা: আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে।
পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি: বিশ্বজুড়ে কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ।
RBI-এর অবস্থান:
গভর্নর স্পষ্ট করেছেন যে, মুদ্রাস্ফীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতির ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক কড়া নজর রাখছে। যদিও গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি যথাক্রমে ৩.২%, ৩.৪% ও ৩.৫% ছিল, যা লক্ষ্যমাত্রার নিচেই। তবুও আসন্ন মাসগুলোতে পরিস্থিতির বদল ঘটতে পারে বলে সাধারণ মানুষ ও বাজারকে সতর্ক থাকতে বলেছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক।





