ফের ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান! ভোররাতেই জারি কম্পন, পরিস্থিতি কী?

জাপানের মাটিতে ফের ভূকম্পন। রবিবার ভোর ৫টা বেজে ২১ মিনিট। যখন গোটা দেশ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই ইওয়াতের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ল ৬.৮ তীব্রতার ভূমিকম্প। জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ভূগর্ভের ৪১ কিলোমিটার গভীর থেকে সৃষ্ট এই কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল ইওয়াত উপকূল। আওমোরিতে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭, যেখানে অবস্থিত হিগাসিডোরি পরমাণু কেন্দ্র। তবে ভাগ্যক্রমে এখনও পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর মেলেনি। জারি করা হয়নি সুনামি সতর্কতাও।

চলতি সপ্তাহে জাপানে কম্পনের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ৭.২ তীব্রতার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল এই একই এলাকা, যাতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার দিনে দু’বার ৫.৬ ও ৫.৮ তীব্রতার কম্পন অনুভূত হয়, যার প্রভাব পড়েছিল রাজধানী টোকিও পর্যন্ত। এছাড়া শুক্রবার সকালে ইবারাকিতে ৪.১ তীব্রতার কম্পন স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করে তোলে। ঘন ঘন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে ভূতাত্ত্বিকরা নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বিশেষ করে শুক্রবার মাউন্ট ফুজি সংলগ্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় বিশেষজ্ঞ মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের সাথে জাপানের এই কম্পনের তুলনা করছেন অনেকে। সেখানে ৭.২ ও ৭.৫ তীব্রতার জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ১৪৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিখোঁজ। প্রশ্ন উঠছে, একই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে ভেনেজুয়েলা যেখানে মৃত্যুপুরী, সেখানে জাপান কেন অক্ষত?

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, জাপান এবং ভেনেজুয়েলা দুই দেশই ভূমিকম্প প্রবণ হলেও, তাদের ভূ-গর্ভস্থ চ্যুতিরেখা বা ফল্টলাইন সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। জাপানের সাফল্যের আসল চাবিকাঠি হলো তাদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি। দেশটি ভূমিকম্প-প্রতিরোধী পরিকাঠামো নির্মাণে বিশ্বসেরা। জাপানে প্রতিটি বহুতল থেকে শুরু করে সাধারণ বাড়ি—সবকিছুই এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে তা বড় মাপের কম্পন সহ্য করতে পারে। নির্মাণ আইন অত্যন্ত কঠোর এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়মিত ড্রিল বা সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকে। প্রকৃতির খামখেয়ালিকে মাথায় রেখেই জাপান তাদের পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে, যার ফলে রিখটার স্কেলে তীব্র কম্পন হওয়া সত্ত্বেও সেখানে ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম থাকে।

জাপান বরাবরই ভূমিকম্প ও সুনামিপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আগামী দিনেও দেশটিতে কম্পনের সম্ভাবনা রয়ে গিয়েছে। তবে জাপানের এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং সচেতনতা তাদের প্রকৃতির এই বিধ্বংসী রূপ থেকেও সুরক্ষা কবচ দিয়ে রেখেছে।