ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা কি তবে টাকার নেশায় নিজেদের নৈতিকতা বিসর্জন দিচ্ছে? ২০২৬ বিশ্বকাপ দোরগোড়ায়, আর ঠিক তার আগেই এক রহস্যময় বেটিং বা ‘প্রেডিকশন মার্কেট’ সংস্থা ‘এডিআই প্রেডিক্টস্ট্রিট’-এর সঙ্গে ফিফার গাঁটছড়া বাঁধার খবর সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে ক্রীড়াবিশ্বে। প্রশ্ন উঠছে, যে সংস্থাটির জন্ম হয়েছে মাত্র গত এপ্রিল মাসে, যার কোনো পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক ইতিহাস নেই, তাদের সঙ্গে কীভাবে কয়েকশো কোটি টাকার আন্তর্জাতিক চুক্তি সেরে ফেলল ফিফা?
তদন্তে উঠে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, জিব্রাল্টারের অর্থমন্ত্রীর বিশেষ সুপারিশে তড়িঘড়ি বেটিং লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এই সংস্থাকে। শুধু তাই নয়, এর নেপথ্যে আবু ধাবির রাজপরিবারের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনাও প্রবল। সমালোচকদের দাবি, অভিজ্ঞতাহীন একটি স্টার্টআপ সংস্থাকে কেন ফিফার মতো জায়ান্ট সংস্থা বেছে নিল, তার উত্তর লুকিয়ে আছে পর্দার আড়ালে থাকা বিপুল আর্থিক লেনদেনে।
এই প্রেডিকশন মার্কেট মূলত আমেরিকাকেন্দ্রিক। যুক্তরাষ্ট্রে আইনের ফাঁক গলিয়ে একে ‘জুয়া’ হিসেবে না দেখিয়ে ব্যবসা চালানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ফুটবলপাগল দেশ আর্জেন্তিনা, ব্রাজিল বা ফ্রান্সের মতো দেশগুলি এই পদক্ষেপকে ভালো চোখে দেখছে না। অনেক দেশেই এই ধরণের অনলাইন বেটিং কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। প্রশাসনিক মহলের আশঙ্কা, ‘প্রেডিকশন মার্কেট’ নাম দিলেও এটি আসলে তরুণ প্রজন্মকে অনলাইন জুয়ার নেশায় ঠেলে দেওয়ার একটি নীল নকশা মাত্র।
বিতর্ক কেবল বেটিংয়ে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে সাধারণ সমর্থকদের ক্ষোভ এখন চরমে। যদিও প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো একে ‘মার্কিন বাজারের স্বাভাবিক চিত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু ফিফার অন্দরেই কানাঘুষো চলছে যে, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ফুটবল। খেলাটির আবেগ আর মূল্যবোধের চেয়ে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাণিজ্যিক মুনাফা। সব মিলিয়ে ফিফার স্বচ্ছতা এখন বিশ বাঁও জলে।





