ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ! ‘বিদ্বেষভাষণ’ মামলায় এবার আইনি জালে তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড’

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় প্রশাসনিক ও আইনি মোড়। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি বিদ্বেষভাষণ বা ‘হেট স্পিচ’-এর অভিযোগে থানায় এফআইআর দায়ের হলো। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় বিজেপি কর্মী সঞ্জয় পয়রা এই অভিযোগ দায়ের করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল জমানায় যে অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল, সরকারের পরিবর্তনের পরেই তা আবারও প্রকাশ্যে আসায় রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

বুধবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দীর্ঘক্ষণ উপস্থিত থেকে সঞ্জয় পয়রা ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর মূল অভিযোগ, ফিরহাদ হাকিম সরকারি মঞ্চে দাঁড়িয়ে যে ধরনের মন্তব্য করেন, তা কেবল অনভিপ্রেত নয়, বরং তা সমাজের নির্দিষ্ট কোনো অংশকে উসকে দেওয়ার মতো। সঞ্জয়ের দাবি, এই মন্তব্যগুলো বিভাজনমূলক এবং প্ররোচনামূলক। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, গত ৩ জুলাই ২০২৪ তারিখে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ফিরহাদ হাকিম ‘দাওয়াত-ই-ইসলাম’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন, যা একটি সুস্থ ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর পরিপন্থী এবং জনমানসে ঘৃণা ছড়ানোর নামান্তর।

থানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সঞ্জয় পয়রা আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ফিরহাদ হাকিম। তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে আমি যখন তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ জানাতে চেয়েছিলাম, তখন পুলিশ সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। সন্দেশখালি উপনির্বাচনের সময় তিনি যেভাবে রাজ্যের নারীদের সম্পর্কে ‘মাল’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছিলেন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘দাড়িওয়ালা’ বলে চরম অবমাননাকর ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছিলেন, তা ছিল অমার্জনীয়। তৎকালীন পুলিশের আইসি ভয়ে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছিলেন, কারণ তাদের ভয় ছিল চাকরি চলে যাওয়ার বা সুন্দরবনে বদলি হওয়ার।”

সঞ্জয় আরও যোগ করেন, “আজ আইনের শাসন চলছে, তাই পুলিশ আমার অভিযোগ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। তৃণমূলের আমলে যখন অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলাম, তখন আমাদের মুখ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারণ, তখন ক্ষমতার দাপটে আইন-শৃঙ্খলা ছিল দলীয় নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু আজ পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, প্রশাসন এখন দলদাস নয়, তাই অভিযোগ দাখিল করা সম্ভব হয়েছে।”

ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপকে বিজেপি একটি বড় জয় হিসেবেই দেখছে। যদিও তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা আগামী দিনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে, যখন রাজ্যের প্রাক্তন প্রভাবশালী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নারীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য এবং ধর্মীয় বিভাজনের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আইনি সিলমোহর পায়, তখন তা দলটির ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে। বর্তমানে বিধাননগর দক্ষিণ থানা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং এই ঘটনার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন রাজ্যের প্রতিটি স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy