একসময় যাঁকে ঘিরে আবর্তিত হতো ফলতার রাজনীতি, সেই দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’র বর্তমান দশা দেখে হতবাক এলাকাবাসী। নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতারের পর এখন তিনি ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতে। বৃহস্পতিবার তদন্তের খাতিরে পুলিশ তাঁকে নিয়ে ফলতার বিভিন্ন এলাকায় ‘রিক্রিয়েশন অফ ক্রাইম’ বা অপরাধের ঘটনার পুনর্নির্মাণে বের হয়।
রাস্তায় ‘অপরাধের টহল’: বৃহস্পতিবার পুলিশি প্রহরায় যখন তাঁকে ফলতার রাস্তায় নামানো হলো, তখন তাঁর পরনে ছিল সাধারণ হাফ প্যান্ট ও টি-শার্ট। প্রভাবশালী নেতা থেকে পুলিশের হেফাজতে থাকা এক অভিযুক্ত—জাহাঙ্গিরকে এমন সাধারণ পোশাকে দেখে ভিড় জমান স্থানীয় মানুষ। খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, অস্ত্র দিয়ে হামলা এবং সম্পত্তি নষ্টের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এই নেতাকে পুলিশি কড়া নিরাপত্তায় বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে অপরাধের সাথে জড়িত বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণের সত্যতা যাচাই করাই ছিল পুলিশের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
জনরোষের আশঙ্কা: গ্রেফতারের পর থেকেই জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে। আদালত চত্বরে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া কিংবা তাঁর আইনজীবী না পাওয়ার মতো ঘটনাগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, পরিস্থিতি তাঁর জন্য কতটা প্রতিকূল। পুলিশি হেফাজতে এই ঘোরানোর সময় যাতে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর রেখেছিল স্থানীয় প্রশাসন।
কেন এই তদন্ত? তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে থাকা একাধিক জামিন অযোগ্য ধারার মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে এই পুনর্নির্মাণ জরুরি ছিল। তিনি নিজে অপরাধের সময় ঠিক কোথায় কোথায় ছিলেন এবং তাঁর দলবল কীভাবে সক্রিয় ছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতেই এই পদক্ষেপ।
নেপাল সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা থেকে শুরু করে বর্তমানে পুলিশের টহলে সাধারণ পোশাকে রাস্তায় হাঁটা—‘পুষ্পা’র এই পতনের কাহিনি এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।





