ফর্ম বিলি নিয়ে ফের বিতর্ক! তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে বসে BLO-র কাজ, মালদায় ভিডিও প্রকাশ করে সরব বিজেপি

রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের এসআইআর (SIR) কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কের মুখে পড়ছে এই প্রক্রিয়া। এবার সরাসরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠল মালদা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে।
১. মালদা: পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে BLO?
মালদার চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুর গ্রামে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন কর্তব্যরত বিএলও (BLO) আলোক চক্রবর্তী। বিজেপি অভিযোগ তুলেছে যে, তিনি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি না গিয়ে চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধানের বাড়িতে বসে এসআইআর ফর্ম বিলি করছেন। বিজেপি এই ঘটনার একটি ভিডিও সামনে এনে BLO-র বিরুদ্ধে বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।
যদিও বিএলও আলোক চক্রবর্তীর দাবি, তিনি কোনও ফর্ম বিলি করছিলেন না, বরং ফর্মগুলো শুধুমাত্র গোছানো হচ্ছিল। তবে এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই স্থানীয় রাজনীতিতে তরজা শুরু হয়েছে।
(এশিয়ানেট নিউজ বাংলা ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি।)
২. বারুইপুর: বিজেপি BLA-কে মারধরের অভিযোগ
অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা এলাকায় এসআইআর কাজ শুরুর আগে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী তথা বিএলও অঞ্জনা মণ্ডলের বিরুদ্ধে পরিচয়পত্র ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এখানেই শেষ নয়, বিজেপির বিএলএ (BLA) সুরজিৎ বিশ্বাসকে চড় মারার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, এই ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত তৃণমূল কর্মী এবং বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান রিয়া বর্মনের স্বামী চয়ন বর্মনের নেতৃত্বে তৃণমূলের লোকজন সুরজিৎ বিশ্বাসকে বেধড়ক মারধর করেন। সুরজিৎ বিশ্বাসকে বাঁচাতে গেলে বিজেপির স্থানীয় শক্তি প্রমুখ তাপস রায়কেও মারধর করা হয়। তিনি মাথায় ও কপালে আঘাত পান।
আক্রান্তদের বুধবার রাতে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি।
তৃণমূলের পাল্টা দাবি:
যদিও অভিযুক্ত চয়ন বর্মন হামলা চালানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর পাল্টা দাবি, অভিযুক্ত বিএলএ (বিজেপি কর্মী) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছিলেন। চয়ন বর্মনের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা মদ্যপ অবস্থায় নিজেদের মধ্যে মারামারি করে মিথ্যাভাবে তৃণমূলকে বদনাম করার চেষ্টা করছে।